মা ইলিশ রক্ষার্থে চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্স পদ্মা-মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় ৯ জেলেকে আটকসহ ৫৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রথমে অভিযানের নেতৃত্ব দেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। রাতে অভিযান পরিচালনা করেন কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন।
শনিবার বিকেলে মা ইলিশ সংরক্ষণে চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্স চাঁদপুর সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, লালপুর বাজার, হরিনা ফেরিঘাট, মতলব উত্তর উপজেলার বোরোচর, চর উমেদ, হাইমচর উপজেলার কাটাখালি ঘাট, চরভৈরবী মাছঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৩ জন জেলেকে আটকসহ ৫০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার সকাল ৮ পর্যন্ত জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স পদ্মা-মেঘনার সদরের অভয়াশ্রম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৬ জেলেকে আটকসহ ৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্টজাল জব্দ করে। সকাল সাড়ে ৮টায় কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটককৃত জেলেদের ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা। চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের সাখুয়া ও রামদাসদী গ্রামের হাফেজ সৈয়ালের ছেলে খোরশেদ সৈয়াল (২৫), লতিফ খানের ছেলে অজুদ খান (২৪), মৃত খোরশেদ ব্যাপারীর ছেলে জাকির ব্যাপারী (৪০), মৃত বিল্লাল গাজীর ছেলে মানিক গাজী (২৮), মৃত সোলায়মান গাজীর ছেলে আল-আমিন (২৬) ও নুরুল ইসলামের ছেলে হাবিবুর রহমান।
অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২১ বীর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পিএসসি, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, নৌপুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান, কোস্টগার্ড কমান্ডার সাব লেফট্যানেন্ট মো. ফজলুল হকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজন অংশ নেন।
সাগর থেকে নদীর মিঠা পানিতে আসা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে গত ১৩ অক্টোবর থেকে আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন অভয়াশ্রম এলাকায় সকল ধরণের মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। আইন অমান্য করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ দু’বছরের কারাদণ্ড এবং উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।