POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

মতলবের চরাঞ্চলে ঝুঁকি নিয়ে মেঘনা পারি দিচ্ছে হাজারও মানুষ

সুমন আহমেদ | প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৪ | সময়: ৬:০৭ অপরাহ্ণ

মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী পশ্চিম পাড়ের চঞ্চলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নদী পাড়ি দিচ্ছে। উপজেলার মোহনপুর, এখলাসপুর, জহিরাবাদ ও ষাটনল ইউনিয়নসহ পাশের জেলা শরিয়তপুরের কাঁচিকাটা, চিতুলীয়া, মুন্সিগঞ্জের বকচর, জাজিরারচর, চরকালিপুর এলাকার মানুষও এ নদী পথে যাতায়াত করে। স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী শত শত শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্টিলের ট্রালারে করে উত্তাল মেঘনা পারাপার হতে হয়।

সম্প্রতি সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটলেও মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ঝুঁকি জেনেও লাইফ জ্যাকেট ও বয়া ছাড়াই ট্রলারে মালামালসহ যাতায়াত করছে যাত্রীরা।

মোহনপুর, এখলাসপুর, জহিরাবাদ, ষাটনল ও কালীপুর লঞ্চ ঘাট থেকে প্রতিদিন মেঘনা নদীর পশ্চিমের চরের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেঘনা নদী পাড়ি দিচ্ছে। এ সব এলাকার মাঝি ও চালকরা কোন নিয়মনীতি মেনে না চলায় যাত্রীদের মাঝে সর্বদা আতংঙ্ক বিরাজ করে। ট্রলারগুলোতে লাইফ জ্যাকেট ও বয়া না থাকায় প্রতিনিয়তই থাকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

মেঘনা নদীতীরে গিয়ে দেখা গেছে, এখলাসপুর, মোহনপুর এবং জহিবাবাদ থেকে বোরচর, চরকাশিম, চরউমেদ, বাহেরচর, নাছিরারচর, চরওয়েস্টার, দিয়ারাকান্দি, শরীয়তপুর জেলার কাঁচিকাটা, চর জিংকিং, মুন্সিগঞ্জ জেলার বকচর, জাজিরারচর, চিতুলিয়ার চর এবং এ উপজেলা থেকে স্বল্প সময়ে ঢাকা যাতায়াতের জন্য কালীপুর ট্রলারঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার চরকালীপুর ট্রলারঘাটে প্রতিদিন দুই শতাধিক ট্রলার যাতায়াত করে থাকে। আর প্রত্যেকটি ট্রলারেই গাদাগাটি করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারি দিচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বোরচর এলাকার যাত্রী সানাউল্লাহ মাষ্টার  শরিয়তপুরের কাঁচিকাটা এলাকার যাত্রী মো. সুমন বেপারী বলেন, ব্যবসায়ীক কাজে প্রতিদিন আমাদের ট্রলারে করে মেঘনা নদী পারি দিতে হয়। আগস্ট-সেপ্টম্বর-অক্টোবর এই তিনমাস মেঘনা নদী উত্তাল থাকে। তীব্র স্রোতে পড়ে ট্রলার ঝুঁকির মধ্যে থাকে। যার কারনে ট্রলারের সকল যাত্রী জীবনের ঝুঁকি থেকে যায়। কোন ট্রলারে বয়া ও লাইফ জ্যাকেট নেই। যাদের আছে, তারাও ব্যবহার করে না। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্শন করছি, যাতে প্রত্যেকটি ট্রলারে বয়া ও লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করা হয়।

ট্রলারের মাঝি কামরুল হোসেন ও নয়ন বেপারী বলেন, অনেক আগে প্রশাসন একবার কিছু লাইফ জ্যাকেট মাঝিদের দিয়েছে। যা দিয়েছে তা পর্যাপ্ত না। এগুলো এখন ছিড়ে গেছে। আমাদের তেমন কোন রুজি নেই যে আমাদের টাকা দিয়ে বয়া-জ্যাকেট কিনবো।

ষাটনল লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার মো. দবির হোসেন বলেন, মতলব উত্তরের চলাঞ্চলের মানুষ ছাড়াও অন্যান্য জেলার মানুষ এখানকার মেঘনা নদী দিয়ে যাতায়াত করে। যার কারনে প্রতিদিন এখানে লোকসমাগম থাকে। সাধারণত লঞ্চে বয়া ও লাইফ জ্যাকেট থাকে কিন্তু ট্রলারে এগুলো কখনো দেখিনি। নিদিষ্ট যাত্রীদের জন্য সকল ট্রলারে বয়া ও লাইফ জ্যাকেট দরকার।

এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজ মুন্না ঢালী বলেন, ব্যবসায়ীক, চিকিৎসা, লেখাপড়াসহ বিভিন্ন কাজে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে নদী পারি দিচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদী বেশি উত্তাল থাকে। এতে করে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যায়। আমি নিজেও অনেকবার মেঘনার উত্তাল টেউয়ে পড়েছি। এখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু করা দরকার।

মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান বলেন, নদীতে আমাদের সার্বক্ষনিক টহল থাকে। আমাদের পক্ষ থেকে ট্রলারের মাঝিদের বার বার সতর্ক করা হয়। যাতে তারা পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া রেখে ঘাট থেকে ট্রলার ছাড়ে। বিশেষ করে বর্ষায় ভাটার সময় নদীর তীব্র স্রোত থাকে। এতে করে ভাটার সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা বেশি থাকে। আমরা সেই সময়ে ট্রলারের মাঝিদের ঝুঁকি এড়িয়ে চলাচল করতে নির্দেশনা প্রদান করি।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একি মিত্র চাকমা, বিষয়ট আমি চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করে ট্রলারে মাঝি ও যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট, বয়া’সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন