POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

মতলব উত্তরের কুইচ্ছা যাচ্ছে বিদেশে 

সুমন আহমেদ | প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৪ | সময়: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খাল-বিল, ডোবা, ধানী জমিসহ বিভিন্ন স্থানে এক ধরনের চাঁই ব্যবহার করে ধরা হচ্ছে কুইচ্ছা। বিশেষ কায়দায় ধরা এসব কুইচ্ছা যাচ্ছে চীন, হংকং সহ বিভিন্ন দেশে। আর কুইচ্ছা বিক্রি করে অন্তত ৩০ পরিবার স্বাবলম্বী। প্রতিমাসে প্রায় নয় লাখ টাকা আয় করেন তারা। কুইচ্ছা ধরার পদ্ধতি দেখে ও লাভজনক পেশা হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় জড়িয়ে পরছে। কুইচ্ছা মাছ কেনার জন্য পাইকাররা প্রতি সপ্তাহে একবার করে এসে তাদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে তারা। ঢাকা থেকে কুইচ্ছা বিদেশে রপ্তানি করা হয়, যা উপজেলায় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কুইচ্ছা দেখতে অনেকটাই সাপের মতো। এর রয়েছে বিভিন্ন নাম, কুঁচে মাছ, কুচিয়া, কুইচ্চা বা কুচে বাইম। এটি একটি ইল-প্রজাতির মাছ। বিশেষ করে কুইচ্ছা মাছ মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের জন্যও খেয়ে থাকেন।
জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই কুইচ্ছা মাছ ধরা হলেও বছরের নভেম্বর থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত কুইচ্ছা মাছ ধরার উপযুক্ত মৌসুম। প্রতিদিন একজন শিকারি গড়ে ৩ কেজি থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত কুইচ্ছা মাছ ধরতে পারে।
কুইচ্ছা ব্যবসায়ী গোফরান মিয়া জানান, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার উজানভাটিয়া এলাকায়। তিনি ছোট ভাই দিদারুলকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে কুইচ্ছা ধরে বিক্রি করে আসছেন।
গোফরান, দিদারুলদের মতো রমিজ, সাদ্দাম, দেলোয়ার হোসেন’সহ ৩৫ পরিবারের লোকজন এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।
গোফরান মিয়া আরো জানান, ৩৫টি পরিবারের মধ্যে প্রতি পরিবারের ১০০ থেকে ১৫০টি চাঁই রয়েছে। কেঁচো গেঁথে এসব চাঁই খাল-বিল, ডোবা, ধানী জমিসহ বিভিন্ন স্থানে পাতা হয়। হাঁটু পর্যন্ত পানিতেও চাঁই পাতা হয়ে থাকে। বর্তমানে তারা মতলব উত্তর উপজেলার তালতলী, ঝিনাইয়া, রুহিতারপার, ছোটমরাধন, ঘনিয়ারপাড়, দেওয়ানজীকান্দি, আধুরভিটি, ওঠারচর, দুলালকান্দি এলাকায় অবস্থান নিয়ে কুইচ্ছা ধরছেন। প্রত্যেকে গড়ে প্রতিদিন তিন থেকে চার কেজি কুইচ্ছা ধরছেন। আর প্রতিদিন বেপারীরা এসব কুইচ্ছা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি কেজি কুইচ্ছা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ওই হিসেবে প্রতি পরিবার প্রতিদিন এক হাজার টাকার বেশি আয় করছেন। আর মাসে আয় হচ্ছে ৩০ হাজার। ৩৫ পরিবার মাসে আয় করছে নয় লাখ টাকার মতো।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, সকাল হলে ২-৩ জন করে একটি দলে বিভক্ত হয়ে কুইচ্ছা শিকার করতে বের হন তারা। সারাদিনে গড়ে ৫ থেকে ৭ কেজি কুইচ্ছা শিকার করতে পারেন। দিন শেষে সংগ্রহকৃত কুইচ্ছাগুলো পাইকারদের হাতে তুলে দিয়ে ৬০০-১০০০ টাকা হাতে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এভাবে কুচিয়া মাছ বিক্রি করে তাদের শতাধিক পারিবারের সংসার চলছে।
কুমিল্লা থেকে আসা পাইকারি কুইচ্ছা ব্যবসায়ী বিমল দাস বলেন, আমাদের দেশে কুইচ্ছা অনেকেই পছন্দ করে না। এজন্য কেউ এ পেশায় ঝুঁকতে চায় না। তবে, আমাদের দেখে ও লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় ঝুঁকতে শুরু করেছে। সরকারিভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হলে কুইচ্ছা চাষের ওপর প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, আমরা এখান থেকে এগুলো কিনে নিয়ে রাজধানীর উত্তরায় বড় পাইকারি ব্যাবসায়ীদের কাছে বিক্রি করি।  উত্তরার হাউজ বিল্ডিং কোনাবাড়ি এলাকায় কুইচ্ছার আড়ৎ রয়েছে। ওই আড়ৎ থেকে সপ্তাহে দুই দিন চীন, হংকং সহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে। ঐসব দেশে কুইচ্ছার চাহিদা অনেক বেশি। সেখানে কুইচ্ছা একটি স্বাদের খাবার হিসেবে পরিচিত।
মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, প্রাকৃতিকভাবে জলাশয়, ডোবা বা পুকুরে প্রচুর কুইচ্ছা জন্মায়। বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর এসব কুইচ্ছা শিকার করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। এতে বেকারত্ব দূর করাও সম্ভব। তবে যেসব কুইচ্ছা প্রাকৃতিকভাবে জলাশয়ে জন্ম নেয় এগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়।
পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন