চলতি বোরো মৌসুমে মতলব উত্তর উপজেলায় ৯ হাজার ৯শ ৫০ হেক্টর জমিতে হয়েছে ধানের চাষাবাদ। ধান কাটা মাড়াই ইতোমধ্যে শুরু করেছেন কৃষকরা। এখন সেই ধান রাত জেগে সিদ্ধ করে সকাল থেকে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। রাত-দিন পরিশ্রম করেও যেন ক্লান্তি নেই তাদের। নিজ ক্ষেতের ধান ঘরে তোলার আনন্দে ভাসছেন তারা।
মঙ্গলবার (১৪মে) দুপুরে গজরা ইউনিয়নে অবস্থিত মতলব উত্তর শিল্পকলা একাডেমি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের কৃষকরা পুরো মাঠে ধান শুকানোর জন্য বিছিয়ে রেখেছেন। বাড়ি থেকে সিদ্ধ করা ধান বস্তায় করে শিল্পকলার মাঠের উপর ঢালছেন তারা। আর কৃষাণীরা সে ধান পা দিয়ে আলগা করে দিচ্ছেন। গ্রীষ্মকাল প্রচন্ড সূর্যের তাপে ধানে পা দিচ্ছেন কৃষাণীরা। যত বেশি ধানে পা দিবেন ততই তাড়াতাড়ি শুকাবে ধান।
কৃষাণীদের কাজের গতি দেখে মনে হয় কোনো ক্লান্তি নেই তাদের। কেন না আগামী আমন মৌসুম পর্যন্ত ঘরের চাল করে নিতে হবে তাদের।কৃষণী নাজমা বেগম বলেন, বোরো ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছি। ধান বিক্রি করা হবে। ছয় মাসের জন্য ঘরের চাল তৈরি করতে হবে। তাই ভোর-রাতে ধান সিদ্ধ করেছি। সিদ্ধ ধান এই মাঠে শুকাচ্ছি।
নুরজান নামের এক কৃষাণী বলেন, এবার আমার স্বামী জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। এবছর ফলন ভালো হয়েছে। জমির ধান কাটা মাড়াই শুরু করেছি। সারা রাত জেগে আমরা দু’জনে মিলে ধান সিদ্ধ করেছি। সকালে বস্তায় করে দুইজন মিলে এই মাঠে নিয়ে এসেছি। আকাশের অবস্থা ভালো আছে, সারাদিনে সব ধান শুকিয়ে যাবে। পরে মিলে ধান ভাঙাবো, আগামী মৌসুম পর্যন্ত আমাদের আর কোন চিন্তা নাই।’
কৃষক ওয়াদুদ বেপারি বলেন, এবার ২৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। ফলন অনেক ভাল, বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ২৬ মণ ধান ঘরে তুলবো। কাটা-মাড়াই শুরু করেছি। বাজারে ধানের দামও ভালো আছে। বাড়ির খাওয়ার জন্য ধান সিদ্ধ-শুকান করা হচ্ছে। আগামী আমন মৌসুম পর্যন্ত এই ধানের চালেই আমাদের সংসার চলবে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, মতলব উত্তর উপজেলায় ৯ হাজার ৯শ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ হয়েছে। ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছে কৃষক। ফলনও ভালো এবং বাজারে দামও ভাল আছে।