বিংশ শতাব্দিতে সামাজিকতার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রথা, দেনধারনা মানুষের মনে ঘাপটি মেরে বসেছে সেটা সরকারী দল বিরোধী দল সর্বোপরি রাজনৈতিক দলই বলিনা কেন সব-কিছুতেই দলকে প্রধান্য দিয়ে সমাজিকতাকে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে। এ জন্য দায়ী যারা সমাজটাকে রাজনৈতিক চাদরে মুড়িয়ে দিয়েছেন। একটি সমাজ ব্যবস্থায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহ অবস্থান যেমন মানুষের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের জায়গাটাকে সমৃদ্ধ করে। তেমনি রাজনৈতিক অব্যবস্থা বেহায়াপনার জন্য আজ তৃণমূল থেকে শহর পর্যন্ত সকল পর্যায়ে শ্রদ্ধা, সম্মান, ভাতৃত্ববোধ, স্নেহ ভালবাসা পালিয়ে গেছে, আগের মতো করে বিচরণ সম্ভব হচ্ছে না ভংগুর প্রেক্ষাপটে।
আজকে সমাজে যে কোন ধরণের সমস্যাবলী আমরা সমাজিকতার চোখে না দেখে- দেখা হয় রাজনৈতিক চোখে। যে কোন ধরণের সমস্যা গুলো আমরা সামাজিক ভাবে মোকাবেলা না করে, রাজনৈতিক ভাবেই চালানোর চেষ্টা করি। আর তখন দলে দলে দলাদলি করে পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান করে অন্যায় কারিকে অন্যায় করতে উৎসাহিত করার রাস্তা সুগম করি। কিন্তু কেন এসব দলাদলি? সমসাময়িক স্বার্থের কারণে সমাজ ব্যবস্থাকে বুলন্ঠিত করে কেউ (দল, গুষ্টি জাতি) ভাল থাকতে পারবে না।
কারণ আপনার পিছনে আপনারই প্রজন্ম, কি শিক্ষা দিচ্ছেন, ওরা কি শিক্ষা লুপে নিচ্ছে। এ শিক্ষা নিয়েই তো (সিলেট নোয়াখালীসহ সকল জায়গায় মতো) এমন অহরহ বিভিন্ন ধরণের নোংরা ঘটনাগুলির প্রতিযোগিতায় সামিল হচ্ছে। ইদানিং একটা জিনিস লক্ষ করলে দেখবেন যে কোন অপরাধকে বা অপরাধীকে রাজনৈতিক ধ্যান ধারনায় মুল্যায়ণ করা হয় বলেই এ সংকট দিন দিন বেড়ে চলছে।
এভাবে চলতে থাকলে লাগাম টানা দূর্সাধ্য হয়ে যাবে। অন্যায় একটা শব্দ যেকোন ভাবে বা প্রেক্ষাপটে সেটা অন্যায়ই। এ শব্দটার প্রতিকার নিয়ে বা রোধে কোন কথা না বলে দলাদলির আক্রোমণ করে প্রকৃত অপরাধীকে অন্যায় শব্দটার মর্মশিক্ষা থেকে বা শাস্তি ব্যবস্থা থেকে দুরে সরিয়ে আরো অন্যায় করার অনুপ্রেরণা আমরা আপনারা যোগাচ্ছি। এটা কে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে রাজনৈতিক দৃষ্টি দিয়ে না দেখে, সামাজিক দৃষ্টি দিয়ে অন্যায় অপকর্ম কে রুখতে হবে; না হয় জাতি হিসবে আমাদের সবাইকে চরম মূল্য দিতে হবে। ইদানিং অন্যায়কারীর পরিচয় না জেনে রাজনৈতিক পরিচয়টাকে বেশী ইস্যু করা হয়, কিন্তু মানুষের বড় পরিচয় তার পরিবার, পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা ; সেখানে কড়া না নেড়ে ভুল মানসিকতায় ভুলের সমারোহে অন্যায় অপরাধ বাড়ানো হচ্ছে।
সমাজের চেয়ে সকল পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিচয়টাকে প্রাধান্য দেয় বলেই অন্যায় প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলছে। এখন বেশী চুলকানি হয় কোন দল কোন সংগঠনের লোক? অন্যায়কারীর নির্লজ্জ কর্মকান্ড নিয়ে প্রতিকার বা প্রতিরোধ নিয়ে কোন কথা বলেন না, অথচ দাবী করেন বা দাবি তোলেন ফতোয়া দেন। তারাতো আমাদেরই কেউনা কেউ তাদের কে নিয়ে দলা-দলি না করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ বা প্রতিকারে ব্যবস্থা নিয়ে সোচ্চার হউন। তবে হা এ অবক্ষয়ের উত্তোরণের সামাজিক শিক্ষা ও পারিবারিক শিক্ষার বিকল্প নেই।