চট্টগ্রামে সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবিতে আয়োজিত পদযাত্রা ও কর্মসূচির গাড়িতে ওঠা কেন্দ্র করে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে জড়ানো দুগ্রুপ হচ্ছে চকবাজার থানা ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলামের গ্রুপ ও মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নাঈম গ্রুপ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানান, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবির প্রতি সংহতি জানাতে নগরীর সিআরবিতে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ একটি কর্মসূচির আয়োজন করে। দুপুর বারটার দিকে ওই কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য চকবাজার থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম মহসিন কলেজের গেট থেকে দুটি টেম্পো ভাড়া করেন। টেম্পোগুলোতে মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক নাঈমসহ তার অনুসারীরা উঠে পড়েন। এতে জাহিদুল ইসলাম গ্রুপের লোকজন বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। তারা লাঠিসোটা হকিস্টিক নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এ সময় বেশ কয়েকজনের মাথা ফেটে রক্ত বের হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। পরে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের নেতা নাঈম ও মিজানের নেতৃত্বে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। ’
কাজী নাঈম বলেন, ‘ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা দাবির প্রতি সংহতি জানাতে কলেজে পদযাত্রা ও পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি ছিল৷ পদযাত্রা নিয়ে বের হয়ে ঘুরে এসে পুনরায় কলেজের প্রধান ফটকে দাঁড়াতেই চকবাজার থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহেদের নেতৃত্বে একদল ছেলে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। কোনো কারণ ছাড়াই তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে।’
চকবাজার থানার ওসি ওয়ালি আকবর জানান, ‘তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে দুগ্রুপের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক। তবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।
সূত্র: যুগান্তর