চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার পূবালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দীর এখনও খোঁজ মেলেনি। তিন গ্রাহকের ৫ কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাংকের একাধিক তদন্ত টিম কাজ করছে। একই সাথে পৃথকভাবে নিখোঁজ ডায়েরী ও গ্রাহক ওকে এন্টারপ্রাইজের করা মামলার তদন্ত কাজ করছে পুলিশ।
তদন্তে আসা পূবালী ব্যাংক কুমিল্লা রিজিওনাল অফিসের আরএম জহিরুল ইসলাম বলছেন, অভ্যন্তরীণ গ্রাহকদের লেনদেনে কোনো সমস্যা নেই। ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দী সপরিবার নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের একাধিক দল বিষয়টি তদন্ত করছেন। তবে ওকে এন্টারপ্রাইজের ২ কোটি ৪৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা গেলো ৪ এপ্রিল এই শাখা থেকেই উত্তোলন করা হয়েছে।
এছাড়া কচুয়া আশ্রাফপুর এলাকার দলিল লেখক শাখা ব্যবস্থাপককে দিয়েছেন ৭৫ লাখ টাকা এবং চাঁদপুর শহরের ব্যবসায়ী আকবর হোসেন লিটন কয়েকভাগে ব্যবস্থাপককে ১ কোটি ৭৬ লাখ নগদ টাকা দার দিয়েছেন এই শাখা ব্যবস্থাপককে।
এদিকে ব্যাংকের গ্রাহক আকবর হোসেন লিটন ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দীকে ঈদের পূর্বে কয়েকভাগে ১ কোটি ৭৬ লাখ নগদ টাকা প্রদান করেন। এসব টাকা শ্রীকান্তের সাথে লেন-দেন হওয়ার সময় সেখানে কোন সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। এসব তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আকবর হোসেন লিটনের স্ত্রী আয়শা আক্তার রুপা।
পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা হুমায়ন কবির ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনকে জানান, ১ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্ন্ত ব্যাংকের সিসি ফুটেজ ব্যাংক কতৃপক্ষের কাছে চাওয়া হয়েছে। তবে ৪ তারিখ মামলায় দেয়া চেক দুটির টাকা উত্তোলণ করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন তারা। প্রথমত শ্রীকান্ত নন্দীর অবস্থান নির্ণয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত কাজ চলছে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)আবদুর রাজ্জাক মীর বলেন, ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দীর নিখোঁজ হওয়া এবং একজন ব্যাংক গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গুরুত্বসহকারে তদন্ত কাজ চলছে। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিখোঁজ ব্যাংক ব্যবস্থাপক শ্রীকান্ত নন্দী (৪০) জেলার কচুয়া উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি সপরিবার কুমিল্লায় থাকতেন। সে বাসায় এখন তালা ঝুলানো। তিনি গেলো ১৪ জানুয়ারী চাঁদপুর নতুন বাজার শাখায় যোগদান করেন। আর কর্মস্থলে ৪ এপ্রিল শেষ অফিস করেন।