ঈদের আমেজ নেই চাঁদপুরের জেলেপাড়ায়। জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনার পাঁচটি অভায়াশ্রমে চলছে টানা দু’মাসের নিষেধাজ্ঞা। নদীতে সব মাছ ধরা নিষেধ। ঋণ আর সংসারের ভরণ-পোষণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে জেলেরা। এই নিষিদ্ধ সময়ে চলছে রমজান ও আসছে ঈদ উৎসব। সব মিলিয়ে দৈন্য দশার কারণে এবারের ঈদের আমেজ নেই জেলেদের। জেলেদের দাবী শুধুমাত্র চাল সহায়তা নয়, নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটাতে নগদ অর্থ সহায়তা প্রয়োজন। তবে জেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, নিষেধাজ্ঞা সময়ে চার ধাপে ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এতে করে এবার তাদের ঈদ ভালো কাটবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের জেলে আহসান ভুঁইয়া। তার পরিবারে সদস্য ১৩ জন। বাবা-ছেলেসহ ৫ জনের পেশা মাছ ধরা। এখন পাঁচজনই বেকার। ঈদে স্ত্রী-সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় দেওয়া দূরে থাক, তিন বেলা আহার জুটাতেই হিমশিম খাচ্ছে তারা। মাছ শিকার করতে না পেরে বেকার থাকায় জমানো টাকাও নেই তাদের হাতে। এমন চিত্র চাঁদপুরের জেলাপাড়ায় সবগুলো পরিবারে। জেলায় ৪৪ হাজার জেলে নিবন্ধিত থাকলেও নিবন্ধনের বাহিরে রয়েছে কয়েক হাজার জেলে। শুয়ে-বসে অলস সময় কাটাচ্ছে আড়তদাররা।হতাশার ছাপ তাদের চোখেমুখেও।
জেলেদের চালের পাশাপাশি তেল, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য যেন কিনতে পারে এ জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করার দাবী জেলেদের এই নেতার।
চাঁদপুর কান্ট্রি ফিস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহআলম মল্লিক বলেন, জেলেদের দাবী হচ্ছে যে, আভায়াশ্রম চলাকালে চাঁদপুর, লক্ষীপুর, বরিশাল, শরীয়তপুর ও ভোলা এই পাঁচ জেলার সকল নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল সহায়তা প্রদান করতে হবে। ২৯ জেলায় ইলিশ প্রকল্পের মাধ্যমে যে বকনা বাচুর ও জাল বিতরণ করা হচ্ছে, এগুলো অভায়াশ্রম এই পাঁচ জেলায় দিতে হবে। জেলেদের চালের পাশাপাশি তেল, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য যেন কিনতে পারে এ জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করতে হবে।)
এদিকে এবার নিষেধাঙ্গা সময়ে জিরো ট্রলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান চাঁদপুর নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।
তিনি জানান, মার্চ-এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের শুরু থেকে আমরা নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চল সব্বোর্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে আসছি। আমরা জিরো ট্রালারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এতে করে যেখানে অসাধু জেলে নদীতে মাছ ধরার চেষ্টা করছে, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। বর্তমানে নদীতে জেলে একেবারেই শূণ্য বলা যায়, আমরা আশা করছি ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। সে পর্যন্ত অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আরো সফলভাবে সমাপ্ত করতে পারবো।
নিষেধাজ্ঞার প্রথম মাসে জেলা ট্রান্সফোর্সের মাধ্যমে প্রায় ২শ’র বেশি অভিযানে অর্ধশত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এই নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের মাঝে চার মাসে ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে। এই বরাদ্দ দিয়েই তারা ঈদ ভালো করবে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদি হাসান।
তিনি বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জেলেদের মাঝে চার মাসে ৪০ কেজি হারে ১৬০ কেজি চাল বরাদ্দ আছে। ইতোমধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়ে গেছে। অভিযান চলাকালীন সময়ে ইলিশ প্রকল্প উন্নয়ন থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কিছু স্প্রীড বোট দিয়েছে। আমরা সাত/আটটি স্প্রীড বোড পেয়েছি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সেই স্প্রীড বোটগুলো দিয়ে সদর, হাইমচর, মতলবে নদীতে নিয়মিত টহল রয়েছে। এবং অভিযানের মাধ্যেমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
জেলেদের মাঝে ইতোমধ্যে সরকার যে চাউল দিয়েছে। সেই বরাদ্দের চাউল ইতোমধ্যে বিতরণ শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি এই বরাদ্দ দিয়েই তারা ঈদ ভালো করবে।
নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের দেয়া তথ্যমতে ১ মার্চ থেকে অভায়াশ্রমে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার গেলো একমাসে ১১২ টি মামলা, ৯০৩ জন জেলেকে গ্রেফতার ও ১২৫ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় মুছলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৭ কোটি ১৪ লক্ষ ৪১ হাজার ২০৩ মিটার জাল ও ১১ হাজার ৯০৪ কেজি মাছ উদ্ধার ও ২০০ নৌকা জব্দ করা হয়।