POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার

আবদুল্লাহ আল মামুন সবুজ | প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সময়: ৯:২৭ অপরাহ্ণ
আজ ৩০ সেপ্টেম্বর । জাতীয় শিশু কন্যা দিবস। সকল শিশু কন্যাসহ শিশুদের সুস্থতা কামনা করছি। শিশুরাই আমাদের ভবিষৎ। এই ভবিষৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দেয়ার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
কন্যাসন্তান ও পুত্র সন্তানের মধ্যে একটি পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। একজন গর্ভবতী মায়ের আল্ট্রাস্নোগ্রাম করার সময় তা যদি কন্যা সন্তান হয় তাহলে তা গোপন করা হয়। কিন্তু পুত্রসন্তান হলে সবাই উৎসব করেন। সামাজিক কারনে তা সমতা করা সম্ভব হয়নি। জমজ দুটি সন্তানের একটি পুত্র ও একটি কন্যা হলে পুত্রসন্তানের প্রতি আলাদা নজর দেয়া হয়। কারন পুত্র সন্তানকে বংশ রক্ষার অবলম্বন ধরা হয়। কন্যা সন্তান যদি অসুস্থ হয় তাহলে সবসময় তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কিন্তু পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে আলাদা দৃষ্টি দেয়া হয়।
যদি একাধিক কন্যা সন্তানের মধ্যে একটি অসুস্থ হয় তাহলে তার উপর অন্যান্য সুস্থ সন্তানদের মানসিক অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। পুত্র সন্তান অসুস্থ হলে তার ভার ঐ পরিবার গ্রহন করলেও কন্যা সন্তানের বেলায় সম্পূর্ন দায় অন্য পরিবারের উপর চাপিয়ে দিতে কিছু জালিম লোকদের দেখা যায়। তবে যেকোন কন্যা সন্তানের প্রতিবন্ধী হলে তার উপর মানসিক অত্যাচার শুধু তারই কষ্ট হয় না বরং আরো একটি পরিবারকে ধ্বংস করতে দেখা যায়। মানসিক রোগের উপর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকেও দেখেছি যে মানুষকে যতই উপদেশ দিন না কেন প্রতিবন্ধী কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে কোন উপদেশ না দিয়ে বরং রূঢ় আচরন করে। কিন্তু পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে তা করতেন না। আমি আরো দেখেছি যে অতি খোদাভক্ত বা হজ্ব পালনকারী ব্যক্তিরা কন্যা সন্তানের অসুস্থতার সময় সামান্য অস্বস্তি বোধ করতে দেখা যায় না। তারা কন্যা সন্তানের অসুস্থতার বিষয়টি কানে না নিয়ে গীবত নামের ধর্মকে ব্যবহার করেন।
পুত্র সন্তান না থাকলে কোন পরিবারকে নি:স্ব করে ঘরজামাই লালন করতে দেখা যায়। এটাও একটি সামাজিক বিপর্যয়।
অসুস্থ কন্যাসন্তান যদি প্রতিবন্ধী হয় তাহলে ইসলামে তালাক দেওয়ার নিয়ম আছে। অর্থাৎ এই কন্যা সন্তানদের প্রতি কেউ স্থান দেয়নি। তবে কেউ যদি তা দয়া করে সংসার করেন তাহলে সমাজের সকলে ভাবে কোন লোভের কারনে সে এই সংসার করেছে। এখানে সমাজ কন্যার সাথে সাথে তাকে দয়া দেখানো লোকদের উপর আঙ্গুল উঠায়।
আজ শিশু কন্যা দিবস। কন্যারা বড় হয়ে প্রেমিকা, বউ, মা দাদী বা নানী হয়ে থাকে। কিন্তু একটি কন্যা সন্তান যদি স্বাভাবিক নিয়মের বাহিরে বা অসুস্থ হয় তখন সে যত বয়স হোক, সে কারো প্রমিকা, বউ , মা বা দাদী-নানী হতে পারে না। সে শিশুর মতই থাকে। বয়স্ক মেয়ে শিশুর মত আচরন কাউকে সহ্য করতে দেখা যায় না। আর তার মা- বাবা যদি কুলাঙ্গার হয় তাহলে তারাও সহ্য করতে পারে না। কারন এই কন্যা সন্তানরা অন্য ৫/১০ টি মেয়ের মত চাকুরী কিংবা ঘর সংসার করতে না পারায় মা-বাবারা তা অভিশাপ মনে করেন। কন্যা সন্তান সুস্থ হলে তা দেশ, সমাজ, জাতি, পরিবারের জন্য শান্তি বয়ে আনবে, যা বর্তমান সমাজকে পুরুষদের চাইতে অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু অসুস্থ কন্যা সন্তান আরেকজন অসুস্থ পুত্র সন্তান থেকে অনেক বেশি নির্যাতিত। তবে কন্যা সন্তানদের উপর অত্যাচার করে আরেকজন নারী। তাই এক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে।
বেশিরভাগ সংসার ভাঙে আরেকজন নারী অর্থাৎ মেয়ের মায়ের কারনে। যত অশান্তি হয় নারীর কারনে। আবার একটি নারীর কারনে একটি সংসার আলোকিত হয়। তার কারনে সন্তানদের পজিটিভ দৃষ্টি ভঙ্গি হয়। আবার একজন পূরুষকে সংসার থেকে ফিরিয়ে শান্তির ছায়া দিতে পারে একজন নারী, আবার ধ্বংস করে একজন নারী। তারপরও কার স্থান সবার উপরে , সেক্ষেত্রে তিনবার উচ্চারন করেছে মা। অর্থাৎ নারীর স্থান সবার উপরে।
পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন