মতলব উত্তরের চরাঞ্চলে আলু জমিতে ফোসকা রোগের (লেট ব্লাইট) হানায় স্থানীয় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা আলু গাছের রোগটিকে বলছেন ফোসকা/ঠোসা রোগ। আলুচাষিরা রোগটির হঠাৎ আক্রমণে এর প্রতিকারে কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। গত কয়েকদিনে রোগটির হানায় এ অঞ্চলে আলুর আক্রান্ত জমিগুলোতে গাছ পচে যেতে শুরু করায় শতশত কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ হতে চলছে। ভুক্তভোগীদের চোখে-মুখে পড়েছে দুশ্চিন্তার ছাপ।
উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে বাহেরচর, বাহাদুরপুর চর, চরউমেদ, খুনেরচর, বোরোচরসহ বেশ কয়েকটি চরাঞ্চলে আলু চাষ হচ্ছে। তবে অনেকে জমিতে লেট ব্লাইটের আক্রমণে আলু গাছ পচতে শুরু করায় ফসলের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদণ না পাওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। এর প্রতিকারে বিভিন্ন কীটনাশক কোম্পানির সংশ্লিষ্ট লোকজন যেসব কীটনাশকের কথা বলছেন সেসব কীটনাশক এই মুহূর্তে খোলাবাজারের পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা গেছে, বোরোচর, বাহাদুরপুর চরে প্রায় হাজার বিঘা আলু জমিতে রোগটির আক্রমণ হয়েছে। আক্রান্ত কোনো কোনো জমিতে প্রায় ৬০-৭০ ভাগ সবুজ আলু গাছ পচে কালো হয়ে গেছে। এছাড়া খুনেরচর ও বাহেরচর এলাকার চরাঞ্চলের বিভিন্ন আলু ক্ষেতেও লেট ব্লাইটের হানার তথ্য পাওয়া গেছে।
উপজেলার কৃষক হান্নান বেপারী বলেন, গত বুধবার একটি জমিতে আলু গাছের পাতায় ঠোসা পড়তে দেখা যায়। দু’দিনেই আলু গাছ ঢলে যাচ্ছে। এখন রোগটি যদি পুরো জমিতে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে আলুর কাঙ্খিত উৎপাদন হবেনা। এ রোগ দমনে প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্প্রে করছি। বাহাদুরপুর এলাকার কৃষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, তার প্রায় ২ বিঘার একটি জমিতে ফোসকা রোগের আক্রমণে প্রায় ৭০ ভাগ আলু গাছ মরে গেছে। আমার অন্য ক্ষেতের অবস্থাও ভালোনা। ষাটনল এলাকার কৃষক কবির বলেন, রোগটির আক্রমণে তার জমির ৬০ ভাগ আলু গাছ পচে মাটিতে মিশে গেছে। আলু চাষে লোকশানের মুখে পড়বেন তিনি। ভুক্তভোগী অন্যান্য আলু চাষীরা বলেন, মৌসুমের প্রথম দিকে টানা বৃষ্টিতে বপনকৃত আলু জমি নষ্ট হয়। অতিরিক্ত খরচ করে আলুর বীজ সংগ্রহ করেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ব্রাকের আলুর বীজ ক্রয় করে জমিতে বপণ করেন। ব্রাক ব্রান্ডের প্রতিবাক্স আলু বীজের দাম ধরা হয়েছে ১০ থেকে ১৬ হাজার টাকা। অথচ জমিতে এসব আলু বীজের সিংহভাগই গজায়নি। আমান উল্লাহ নামে এক আলুচাষি বলেন, আলু ক্ষেতের পচন রোগ দমনে প্রয়োজনী সব কীটনাশক এখন বাজারে মিলছে না। তিনি দাবি করেন, এ বছর প্রতিকানি (১৪০ শতাংশ) আলু ক্ষেতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের খরচ পড়ছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। এতে জমিতেই প্রতি মণ আলুর উৎপাদন খরচ পড়বে ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। খরচ পুষিয়ে উঠেতে সমপরিমাণ জমিতে অন্তত ৪শ’ মণের অধিক আলু উৎপাদন হতে হবে। তা না হলে বর্তমান বাজারদরে আলু চাষে লোকশান হবে নিশ্চিত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতলব উত্তরে উপজেলায় প্রায় ৬শ’ ৬৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হচ্ছে। মৌসুমের প্রথম দিকে ঝুর্ণিঝড় ও বৃষ্টির প্রভাব, পরবর্তীতে ঘন কুয়াশা ও হঠাৎ গরমে বপনকৃত আলুর জমি নষ্ট হয়। ভুক্তভোগীরা পুনরায় আলু চাষে লাভের স্বপ্ন দেখেন। তবে লেট রাইটের আক্রমণে কৃষকের এই স্বপ্নভঙ্গ হতে চলছে। উপজেলা কৃষি অফিসার ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, আলু গাছের পচন দমনরোধে সবাইকে একযোগে একই মাঠে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। রোদ থাকা অবস্থায় একটানা ৫-৬ দিন। এতে আক্রান্ত জমিতে একেবারে গাছ মরে যাওয়ার পরিমাণ কিছুটা কমবে। সাইক্সা, সিকিউর, এক্সাট্রামিন এবং প্রয়োজনে সাপেক্ষে অটেনস্টিন কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।