কর্ম জীবনের শেষ দিনে ফুলে ফুলে সাজানো গাড়ীতে বাড়ী ফিরলেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বলশীদ হাজী আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক। দুই শিক্ষকের বিদায়ের খবর শুনে ছুটে যান প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ব্যাচ ভিত্তিক উপহার সামগ্রী আর পুরোনো ছাত্র-ছাত্রীসহ বিদায়লগ্নে বর্তমান শিক্ষার্থী, বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী, পরিচালনা পর্ষদের ব্যাতিক্রমী এই আয়োজন দেখে নিজেদের সুখী মানুষ হিসেবে অখ্যায়িত করেছেন ওই শিক্ষকেরা।

সাইত্রিশ বছরের শিক্ষকতা জীবনে হাজারও ছাত্র-ছাত্রীর বিদায় দেয়া প্রবীণ শিক্ষক হরি কমল দাস (৬১) আর ৩২ বছরে মোস্তাফিজুর রহমান (৬০)। গেলো রোববার এই দুই শিক্ষক কর্ম জীবনের ইতি টানলেন। ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের দোয়া শেষে দুই শিক্ষকের বিদায় সবংর্ধনার আয়োজন করা হয়। প্রিয় দুই শিক্ষককে বিদায় জানাতে ছুটে যান বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ফুলে ফুলে সাজানো হয় প্রাইভেটকার। বিদায়ের আগে দুই শিক্ষকের হাতে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদসহ প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষকের হাতে তুলে দেন উপহার সামগ্রী। বিদায়লগ্নে প্রিয় শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে পেরে ধন্য মনে করছেন পুরোনো শিক্ষার্থীরা।
গুণী দুই শিক্ষকের জন্য বিদায় সবংর্ধনার আয়োজন করতে পেরে খুশি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও ভূমি দাতা সদস্যরা।
শিক্ষক হরি কমল দাস বিদায় লগ্নে বলেন, ১৯৮৬ সালে বাংলার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন বলশীদ উচ্চ বিদ্যালয়ে। তিনি কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়নের চাঙ্গীনী গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সংসার। ৩৭ বছর জ্ঞান বিলিয়ে দিলেও ক্লাসে পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কষ্ট হয় তার।

শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি শাহরাস্তি রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের আহম্মদনগর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯১ সালে তিনি এই স্কুলে বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তার স্ত্রী সুলতানা পারভীন সিমু আহম্মদনগর কাইথড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। এই স্কুলে ৩২ বছরের শিক্ষকতা করেন তিনি। কিন্তু বিদায় সংবর্ধনা মেনে নিতে পারছেন না। তিনি আরো শিক্ষকতা করতে চান। কিন্তু নিয়তি আর বয়স তাকে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় আটকে রাখতে পারছে না বলে জানান।
এই বিদায়ে বিদ্যালয়টি দুই নক্ষত্রকে হারিয়েছেন বলে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষক অকিল চন্দ্র দেবনাথ। তিনি বলেন, দুই শিক্ষক পাঠদান ও বিদ্যালয়ের মান-উন্নয়নে সবচেয়ে সেরাটা দিয়ে গেছেন।

বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষকের শূন্যতা পূরণ হবার নয় বলে জানিয়েছেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মকবুল হোসেন পাটোয়ারী ও আজীবন দাতা সদস্য মোহাম্মদ আবু ইউছুফ রুপন পাটোয়ারী ও ফখরুল ইসলাম। বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন প্রয়াত চেয়ারম্যান আশেক আলী।