১২ বছর ধরে একটি ভ্যানগাড়িতে কসমেটিক্স সামগ্রী সুসজ্জিত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করছেন মো. কবির হোসেন। এসব কসমেটিক্স সামগ্রী বিক্রির আয়ে চলে তার সংসার। যুবক কবির হোসেন মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে।
মো. কবির হোসেন বলেন, বিগত ১২ বছর ধরে একটি ভ্যানগাড়িতে করে নারীদের প্রয়োজনীয় কসমেটিক্স সামগ্রী বাড়িতে গিয়ে গিয়ে বিক্রি করছি। আমার কাছে অন্তত একশত প্রকারের কসমেটিক্স সামগ্রী রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই কাজের ফলে বহুমানুষের কাছে আমার এসব কসমেটিক্স সামগ্রীর কদর রয়েছে। অনেকে আবার আমার নাম দিয়েছেন লেইচ- ফিতাওয়ালা। এই নামেও অনেকের কাছে আমার বেশ পরিচিতি রয়েছে। আমার এই পণ্যে ক্রেতাই অধিকাংশ নারী। কবির বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টায় এসব কসমেটিক্স নিয়ে বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি যাই, সারাদিন বিক্রি শেষে আবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরি। এক টাকা থেকে একশত টাকা মূল্যের কসমেটিক্স রয়েছে আমার কাছে। দিনশেষে যেখানে বিক্রি হয় ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা। সারাদিনের এই বিক্রি থেকে ৪শ থেকে ৫শ টাকার মতো লাভ হয়।
এসব কসমেটিক্স সামগ্রী বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে আমার সংসার। সংসারে স্ত্রীসহ আছে দুই ছেলে। এসব কসমেটিক্স সামগ্রী বিক্রির আয়ে তাদের নিয়ে সুন্দরভাবে চলছি।
কোহিনুর আকতার নামে এক নারী জানান, কবির হোসেনকে অনেক দিন ধরেই চিনি। তিনি বিভিন্ন সময় বাড়িতে প্রয়োজনীয় কসমেটিক্স সামগ্রী নিয়ে আসেন। তার কাছ থেকে অনেক সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনি। তার কাছ থেকে অনেক কম দামে জিনিসপত্র কিনতে পারি। এছাড়া সাধ্যের মধ্যেই তার কাছে পছন্দের বিভিন্ন জিনিসপত্র পাচ্ছি। কবিরের কাছ থেকে ৮ বছরের মেয়ের জন্য চুলের খোপা কিনেন মো. আবু সাঈদ উজ্জল।
তিনি জানান, বাড়িতে ওনাকে দেখেই মেয়ে বায়না ধরেছে চুলের খোপা কিনবে। তাই মেয়ের জন্য ওনার কাছ থেকে দুইটি খোপা কিনেছি। দামও অনেক কম। কবিরের কাছে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মহিলাদের প্রয়োজনীয় কসমেটিক্স সামগ্রী। অনেক সময় খেয়াল করেছি মহিলারা তার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। এমনকি মহিলারা তাদের প্রয়োজনীয় কসমেটিক্স সামগ্রী কিনতে এই লোকের অপেক্ষায়ও থাকেন।