POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

সন্ধ্যাবাতি-হারিকেন এখন কেবলই স্মৃতি

সুমন আহমেদ | প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৪ | সময়: ৭:১৮ অপরাহ্ণ

কালের বিবর্তনে মতলব উত্তরে হারিয়ে গেছে গ্রামীণ সন্ধ্যা বাতি হারিকেন ও কুপি। গ্রামীণ সমাজের প্রতিটি ঘরে ঘরে এক সময় আলোর অন্যতম বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হতো সন্ধ্যা বাতি হারিকেন ও কুপি।

বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের দু’এক বাড়িতে হারিকেন এবং কুপি পাওয়া গেলেও দেখা যায় ব্যবহার না করায় সেগুলোতে ময়লা ও মরিচা পড়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এখন আর কোনো ঘরে কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হাজার বছরের ঐতিহ্যের বাহন সেই হারিকেন ও কুপি এখন আর চোখে পড়ছে না। অথচ আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগেও বেশিরভাগ ঘরেই ব্যবহার করা হতো হারিকেন ও কুপি। আর বিশ বছর পরে এসে এর রুপ এখন পুরোটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। ২০ বছর আগে ও ছিল এমন যে সারাদিন কর্মব্যস্ততা সেরে নারীরা ব্যস্ত হয়ে পড়তেন সন্ধ্যায় ঘরের আলো জ্বালানো নিয়ে। কালের বিবর্তনে মতলব উত্তর উপজেলাসহ দেশের প্রায় জায়গা থেকে হারিয়ে গেছে এই হারিকেন ও কুপি। বর্তমানে সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ঘরের চিত্রটাই পাল্টে গেছে। গ্রামীণ সমাজের সন্ধ্যা বাতি ছিল হারিকেন। তা এখন অতীত স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। সমাজ পরিবর্তন, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার  ঐতিহ্যবাহী হারিকেন এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিদ্যুতের বাতি, চার্জার ও সৌর বিদ্যুতের নানা ধরনের ব্যাবহারের ফলে এখন হারিকেন ও কুপির ব্যবহার তেমন দেখা যায় না। উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এখন আর এগুলো খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তবে যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানে হারিকেনের জায়গা দখল করে নিয়েছে সৌর বিদ্যুৎতের আলো বা চার্জের লাইট। প্রতি সন্ধ্যায় হারিকেন চিমনি খুলে, ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে, চিপি খুলে কেরোসিন তেল ঢেলে আবার চিপি লাগিয়ে শলতার মধ্যে দেশলাইয়ের কাটি জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে তা নির্দিষ্ট সীমা রেখায় রেখে ঘরের মাঝে লাগিয়ে রাখতো। ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা এক ধরনের কাপড় ফিতা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আলো কমানো ও বাড়ানো যেত। রাতে ঘুমানোর সময় সারারাত হারিকেন জ্বালিয়ে রাখা হতো। তখন এগুলো ছিল কয়েক প্রকার। ছিল পিতল ও সিলভারের। তবে সিলভার, টিন ও মাটির তৈরি জিনিসের ব্যবহার ছিল খুব বেশি। বাতির নলে আগুন জ্বালানোর জন্য ফিতা হিসেবে ব্যবহার করা হতো ছেড়া কাপড়।

কাপড়ের টুকরো কিংবা পাটের সুতলি। চিকন আর লম্বা করে বলে বাতির নল দিয়ে ডুকিয়ে দিত। প্রতিদিন এর কিছু অংশ জ্বলে পুরে যেত। পরেরদিন আবার একটু ওপরের দিকে তুলে দিত। এক পর্যায়ে তা পুরে গেলে আবার নতুন করে লাগানো হতো। এটা ছিল নারীদের সন্ধ্যা বেলা কাজের বিশেষ একটি অংশ। এই বাতি দিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করত। ছেংগারচর পৌরসভার ডেঙ্গুরভিটি গ্রামের কমলা বিবি জানান, ২০-২৫ বছর আগে আমি নিজেই হারিকেন জ্বালিয়ে লেখাপড়া করেছি এখন আর চোখে পড়ে না।

এছাড়া ও রাতের রান্না বাড়া, খুঁটির শিল্প, হস্ত শিল্প, ধান মারাসহ সকল চাহিদা মেটানো হতো এই আলো দিয়ে। এখন আর চোখে পড়ে না হারিকেন ও কুপি। যারা শহর এলাকায় বাস করছেন বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম তো চোখে দেখেনি হারিকেন ও বাতি।অভিজ্ঞমহল মনে করছেন কালের আবর্তনে ডিজিটাল যুগে এই হারিকেন ও বাতি নামক বস্তুটি কোন এক সময়ে স্মৃতির যাদুঘরে দেখা যাবে অতীত স্মৃতি হয়ে।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন