ভাঙারি মালামাল সংগ্রহ করা মো. মুকুল হোসেন। গত ছয় বছর ধরে এ কাজ করছেন, এখানের আয়েই চলে তার সংসার। মুকুল হোসেন মতলব উত্তরের ১০নং ফতেপুর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের বেগমপুর এলাকার মৃত্য মমিন প্রধানের ছেলে।
তিনি বলেন, আগে রিকশা চালাতাম। এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে রিকশাটি কিনেছি। তবে কিছুদিন পরেই ওই রিকশাটি চুরি হয়ে যায়। এরপর কয়েকদিন বেকার অবস্থায় ছিলাম। এতে সংসার চালাতে কষ্ট হতো। তাই এই ভাঙারি মালামাল সংগ্রহের কাজ শুরু করি। প্রতিদিন সকালে ভ্যানগাড়ি নিয়ে বের হই। ঘুরে বেড়াই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করি মানুষের অপ্রয়োজনীয় পুরনো টিন, লোহা ও প্লাস্টিকের মালামাল। এসব কেজি দরে মানুষের কাছ থেকে কিনি। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দেড় থেকে দুই মণের মতো পুরনো ভাঙারি মালামাল সংগ্রহ করতে পারি। এরপর তা নিয়ে আড়তে বিক্রি করি।
মুকুল বলেন, মাস শেষে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো এসব পুরনো ভাঙারি মালামাল বিক্রি করতে পারি। ক্রয়সহ অন্যান্য খরচ বাদে এখান থেকে ১২ হাজার টাকার মতো লাভ হয়। এ লাভের টাকায়ই চলে আমার সংসার। মানুষজনের অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বিক্রির পর যা লাভ হয় তা দিয়েই স্ত্রীসহ সন্তানদের নিয়ে কোনো রকমে দিন পার করছি।
ভাঙারি মালামাল সংগ্রহকারী মুকুল আরো বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে যে রিকশা কিনেছি সেই টাকা এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। যার জন্য ওই ঋণ নতুন করে আবা রিনিউ করেছি। এখনো টানছি সেই ঋণের বোঝা। কারণ এসব ভাঙারি মালামালে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনো রকমে কেবল সংসারই চলে। সংসার চালানোর পর মাস শেষে আর অতিরিক্ত তেমন টাকা থাকে না, এ জন্যই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছি না। কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেলে ঋণ পরিশোধসহ পুরনো এই ভাঙারি মালামাল বেশি পরিমাণে সংগ্রহ করতে পারতাম।
মুকুল হোসেন এর কাছে বাসার অপ্রয়োজনীয় কিছু প্লাস্টিকের সামগ্রী বিক্রি করেন ফতেপুর ইউনিয়নের মো. কামরুল ইসলাম তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘরে এগুলো পড়েছিল। যা কোনো কাজে আসছে না। তাই ওনার কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। বিক্রি করে কিছু টাকাও পেয়েছি।
H/A