POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

আইন অঙ্গনের অসংগতি রোধই হোক আইনজীবী সমিতির নির্বাচনী অঙ্গীকার

খন্দকার সাইফুল ইসলাম | প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৪ | সময়: ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদের বিচার ব্যবস্থার অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে কথা বলাও আদালত অবমাননার শামিল বলে একটা মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা ও ভয়-ভীতি দীর্ঘদিন আমাদের মস্তিষ্কে জেঁকে বসে আছে, সেটা অন্যায় কিংবা দুর্নীতি যাইহোক, তা নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না কিংবা কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। তাই আমরা অসংগতি, অন্যায় ও দুর্নীতিগুলোকে বিনা যুদ্ধে হয় মেনে নিয়েছি আর না হয় নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। আমাদের আদালতের কিছু সংখ্যক ম্যাজিস্ট্র্যাট ও বিচারকগণ আইনজীবীদের শুনানির সময় ভরা এজলাসে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, ধমকের স্বরে কথা বলেন কিংবা তেড়ে আসেন, কখনো কখনো নাজেহাল করে ছেড়ে দেন। তখন কিছু আইনজীবী বিচারকের উক্ত ভূমিকায় অত্যন্ত গর্ববোধ করে নিজেকে যোগ্যতার কাতারে কল্পনা করেন। আর অধিকাংশ আইনজীবীরা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থেকে মনে মনে ক্ষোভ আর ঘৃণা উদগীরণ করে নীরব প্রতিবাদে শামিল হোন।

বিচারকরা তো কখনো কখনো দরখাস্ত বা আবেদন গ্রহণই করতে চান না, আর শুনানি তো হলো অনেক পরের বিষয়। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বিচারিক স্বেচ্ছাচারিতায় কে কার চেয়ে এগিয়ে সেই তীব্র প্রতিযোগিতা এখন বিচারালয়ের আবশ্যিক বার্ষিক ক্রীড়া অনুষঙ্গ। আর বিচার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন কাজে নির্ধারিত রেট হাঁকিয়ে প্রকাশ্য দুর্নীতি কারোই অজানা নয়। কোনো কোনো পেশকার তো মামলা বাগিয়ে নিয়ে ধার করা আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনা করছেন অর্থাৎ তারাই এখন অঘোষিত সিনিয়র আইনজীবী। মামলা ফাইলিং, মামলা প্রত্যাহার, নোটিশ ও সমন জারি, দরখাস্ত ও হাজিরা দাখিল, নথি উপস্থাপন, পরবর্তী ধার্য তারিখ নির্ধারণ, বেইলবন্ড দাখিল, রি-কল গ্রহণ, মামলার নকল কিংবা ফটোকপি সংগ্রহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে জিআরও, সিএসআই, সেরেস্তাদার, নাজির, পেশকার, রেকর্ড কিপার, পিয়ন, জারিকারক, পিপি, এপিপি সবারই আলাদা আলাদা সুনির্দিষ্ট রেট রয়েছে, যা আদালতের বিচারক ও আইনজীবী সবাই সম্যক অবগত।

আমাদের আইনজীবীদের একটা অংশ কোর্টের গারদখানা, জেলখানা, থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও মামলার উৎসস্থলে কমিশনের ভিত্তিতে কিছু দালাল সহযোগী নিয়োগ করে শতশত মামলা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কিছু আইনজীবীরা অসহায়ের মতো কয়েকটা মামলা পাওয়ার আশায় দিন গুনেন, আর কিছু আইনজীবী এসব দালালী স্টাইল দেখে নিজেরাও এখন এই পথেই হাঁটতে শুরু করেছেন। তারা প্রথমে মক্কেলদের বিনামূল্যের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে অবতীর্ণ হন, তারপর শাস্তির মাত্রা ও রিমান্ডের ভয় দেখিয়ে, দ্রুত জামিনের কন্ট্রাক্ট নিয়ে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে ছাড়েন। আর অন্য আইনজীবীরা এসব দেখেও অসহায়ত্ব নিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে এই অন্যায়কে সমর্থন করে যাচ্ছেন। কতক আইনজীবী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বার ভবনে চেম্বারের বরাদ্দ হাঁকিয়ে নিয়েছেন এবং আইনজীবী সমিতির ফান্ড তছরুপ করে চলেছেন। আবার এক আইনজীবীর পরিচালনাধীন মামলা অন্য আইনজীবী কৌশলে বাগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

আবার এমন কিছু আইনজীবী আছেন যারা তার ক্লার্ক, সহযোগী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের সাথে নির্দয় দুর্ব্যবহার ও অসদাচরণ করেন। কোন কোন আইনজীবী তো রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিচারকদের সাথে অশোভন আচরণ করছেন, অবৈধ চাপ প্রয়োগ কিংবা অনৈতিক সুবিধা দিয়ে জামিন, রিমান্ড কিংবা কাঙ্খিত আদেশ করিয়ে নিচ্ছেন। কোনো কোনো শিক্ষানবিশ আইনজীবী তো ক্লাইন্টদের নিকট নিজেকে মহা পন্ডিত সাজিয়ে অন্য আইনজীবীর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দিয়ে মামলা বাগিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ সনদপ্রাপ্ত আইনজীবীকে ম্যানেজ করে নিজেই একটা অঘোষিত আলাদা চেম্বার খুলে বসছেন। এদিকে আইনজীবী সহকারীদের বেশ কিছু সদস্য দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কামিল ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে সর্বত্র জাহির করেন এবং ক্লাইন্টদের প্রভাবিত করে মামলা বাগিয়ে নিয়ে নিজেই অন্য আইনজীবীকে দিয়ে পরিচালনা করিয়ে নিচ্ছেন।

তারা ক্লাইন্টকে বুঝাতে সক্ষম হন যে, আমি যা বুঝি তা কোনো আইনজীবী আজ পর্যন্ত বুঝে নাই, আর সে সুবাদে একটা মফস্বল চেম্বার পরিচালনা করা দায়িত্বের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের সাথে রূঢ় আচরণ ও দুর্ব্যবহারের জন্য আইনজীবী সহকারীর বিশেষ সুনাম ও সুখ্যাতি কোর্ট পাড়ার সবারই জানা। তাই পরিশেষে বলবো, আইন অঙ্গনের এসব অসংগতি রোধই হোক আইনজীবী সমিতির নির্বাচনী অঙ্গীকার। লেখকঃ খন্দকার সাইফুল ইসলাম

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন