POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

মতলব উত্তরে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত গাছিরা

সুমন আহমেদ | প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১২, ২০২৩ | সময়: ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ঋতুচক্রের হিসাবে শীত শুরু হবে কদিন বাদেই। প্রকৃতিতে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। শীতের আগমন উপলক্ষে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছেন মতলব উত্তর উপজেলার বেশির ভাগ গাছি।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে গাছিদের খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতির চিত্র। অনেকে গাছ প্রস্তুত করে শুকাতে দিয়েছেন। কেউ কেউ খেজুরের রস সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রিও শুরু করেছেন। আবার অল্প হলেও কিছু গাছিকে এখনো খেজুরের গাছ পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। গাছিরা জানিয়েছেন, দু-এক সপ্তাহের মধ্যে গাছ থেকে পুরোদমে শুরু হবে রস সংগ্রহের কাজ।
চরপাথালিয়া গ্রামের রিপন দাস বলেন, শীত এলেই খেজুর রসের গুড় দিয়ে তৈরি ভাবাপিঠা, পুলিপিঠা, রসপিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়। খেজুরের গুড়ের তৈরি পিঠাগুলো খেতেও খুব সুস্বাদু।
হাঁপানিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, শীতের সকালে রস ব্যবসায়ীরা সকাল সকাল উঠে হাঁক ছাড়েন, ‘এই রস আছে, রস’। খেজুরের রস খেতে সত্যিই সুস্বাদু। গাছিরা গাছ প্রস্তুত করছেন এখন।
ষাটনল গ্রামের গাছি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গাছগুলো প্রস্তুত করেছি। এক সপ্তাহ পর গাছে কলস বাঁধব। শীতের শিশির যত বাড়বে, তত বেশি রস বের হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে রস সংগ্রহ শুরু হবে। ১৪টি গাছের কাজ শেষ করেছি। এই মৌসুমে আশা করছি ভালো লাভ হবে। অনেক সময় রস বিক্রি করি। আবার এই রস দিয়ে একসময় গুড় তৈরি করেও বিক্রি করতাম। খেজুরের রস সুস্বাদু হওয়ার কারণে সব বয়সী মানুষের কাছে এটা অনেক জনপ্রিয়।
গাছি নাছির উদ্দীন বলেন, গাছ পরিষ্কার করা হয়ে গেছে। খেজুরের রসের চাহিদা ব্যাপক। কিন্তু এখনো পর্যাপ্ত রস না পাওয়ায় দিতে পারছি না। দুই কলস রস সংগ্রহ করলে ১ কেজি গুড় তৈরি হয়। আর রস বিক্রি হয় ১ গ্লাস ২০ টাকা করে। গুড় বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি দরে।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যে সামান্য রস পেয়েছিলাম, তা সকালে বিক্রি করে বাড়ি চলে এসেছি। সামনের সপ্তাহ থেকে পুরোদমে রস সংগ্রহ শুরু হবে, ব্যস্ততাও বেড়ে যাবে। রস সংগ্রহ চলবে প্রায় চার মাস। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হয়। কারণ খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য কোনো খরচ হয় না। তবে ঝুঁকি নিয়ে গাছ প্রস্তুত ও রস সংগ্রহ করতে হয়।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলায় বেশ ভালো সংখ্যায় খেজুর গাছ আছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে খেজুরের রস সংগ্রহের কাজ। আর খেজুরগাছ সাফ করে যে পাতাগুলো রাখা হয়, সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন নকশার পাটি তৈরি করা হয়।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, শীত মনে করিয়ে দেয় সুস্বাদু খেজুরের রস ও গুড়ের কথা। গাছিরা রস সংগ্রহ করে বিভিন্ন গ্রামে বিক্রি করে বেড়ান। তা ছাড়া জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেও বেশি দামে বিক্রি করেন। আশা করছি এবার গাছিরা লাভবান হবেন। চাষিদের বলাও হয় জমির আইল দিয়ে কিছু খেজুরগাছ লাগাতে। মতলব উত্তর উপজেলার মাটি ভালো হওয়ার কারণে রসও সুস্বাদু হয়।
পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন