দেশে জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয় ১৭ মার্চ। তবে সারা বিশ্বে শিশুদের অধিকার সুরক্ষিত করতে ২০ নভেম্বর (সোমবার) পালন করা হয় ‘বিশ্ব শিশু দিবস’।
আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে শিশুরা যেন তাদের মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত না হয়। কোনোভাবেই যেন স্কুল ছুট হয়ে না যায়। আর এসব কিছুই মনে করিয়ে দেয় ‘বিশ্ব শিশু দিবস’।
সারা বিশ্বে ৭৩.৫ কোটি শিশু ভুগছে যথাযথ পুষ্টির অভাবে। শুধু যে প্রতিদিন দুবেলা খাবার জুটছে না, তা নয়। অপুষ্টি আদতে ডেকে আনছে নানারকমের রোগ। যে রোগের কারণে বাড়ছে শিশুমৃত্যুর হার। এই বাস্তব ছবির কথাই তুলে ধরে ‘বিশ্ব শিশু দিবস’।
মূলত এই দিবসটি শিশুদের সম্মানে প্রতি বছর উদযাপিত হয়। এটি উদযাপনের তারিখ দেশ অনুসারে পরিবর্তিত হয়। ১৯২৫ সালে জেনেভায় বিশ্ব শিশু কল্যাণ সম্মেলনে প্রথম ‘আন্তর্জাতিক শিশু দিবস’ ঘোষণা করা হয়। ১৯৫০ সাল থেকে এটি বেশিরভাগ কমিউনিস্ট এবং পোস্ট-কমিউনিস্ট দেশগুলোতে ১ জুন উদযাপিত হয়।
১৯৫৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ শিশু অধিকারের ঘোষণাকে স্মরণ করার জন্য ২০ নভেম্বর ‘বিশ্ব শিশু দিবস’ পালন করে। কিছু দেশে, এটি শিশু সপ্তাহ হিসেবে পালিত হয়।
ম্যাসাচুসেটসের চেলসিতে ইউনিভার্সালিস্ট চার্চ অব দ্য রিডিমারের যাজক রিভারেন্ড ডা. চার্লস লিওনার্ড ১৮৫৭ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় রোববার ‘শিশু দিবস’ পালন শুরু করেন। লিওনার্ড তাদের এবং শিশুদের জন্য উৎসর্গকৃত একটি বিশেষ সেবার আয়োজন করেন। লিওনার্ড প্রথমে দিনটির নামকরণ করেন রোজ ডে, যদিও পরে ফ্লাওয়ার সানডে নামকরণ করা হয় এবং এরপরে ‘শিশু দিবস’ হিসেবে নামকরণ করা হয়।
প্রতি বছরের মতোই একটি বিশেষ ভাবনাকে কেন্দ্র করে পালন করা হবে ‘বিশ্ব শিশু দিবস’। চলতি বছরে দিনটির পিছনে রয়েছে ‘ফর এভরি চাইল্ড, এভরি রাইট’। অর্থাৎ প্রত্যেক শিশুর জন্য প্রত্যেকটি অধিকার। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতেই এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে ২০২৩ সালে।