গাজায় শিশু নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে রবিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত ৩০ দিনে ইসরায়েলি হামলায় ৯ হাজার ৭৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু ৪ হাজার ৮। নারী দুই হাজারের বেশি। বয়স্ক মানুষ প্রায় ১ হাজার।
গাজার আল-আকসা হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, রবিবার বিকালের মধ্যে গাজার বুরেজি শরণার্থী শিবিরে একটি স্কুলের কাছে ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৩ শিশু নিহত হয়। ক্যাম্পটিতে আনুমানিক ৪৬ হাজার লোকের বাস।
হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না আবাসিক ভবন, শরণার্থী শিবির, হাসপাতাল ও স্কুল। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলার স্বীকার হওয়া তৃতীয় শরণার্থী শিবির বুরেজি। এর আগে গাজার আল-মাগাজি ও জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে হামলায় ৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ১৫ লাখই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
রবিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে দানিয়েল হ্যাগারি বলেন, এখন গাজা দুই টুকরো। একদিকে উত্তর গাজা। অন্যদিকে দক্ষিণ গাজা। হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তবে দুই দিন আগে উত্তর গাজাকে উপত্যকাটির বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার দাবি করেছিল ইসরায়েল। তখন দেশটির গণমাধ্যমগুলোয় গাজা সিটিতে দেশটির সেনারা প্রবেশ করছে বলেও দাবি করা হয়েছিল।
রবিবার টাইমস অব ইসরায়েলসহ দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম দাবি করে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজা সিটিতে আইডিএফের সেনারা ঢুকতে শুরু করবে।
আলজাজিরা জানায়, রবিবার সন্ধ্যা থেকে গাজায় টেলিযোগাযোগ তৃতীয়বারের মতো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাই ইসরায়েলের গাজাকে দুই টুকরো করা বা গাজা সিটি ঘিরে ফেলার দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
ইসরায়েলের স্থল অভিযান এখন পর্যন্ত উত্তর ও উত্তর-মধ্য গাজায় তাদের স্থল অভিযান সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি সেনা গাজায় পাঠিয়েছে ইসরায়েল।
হামাস যতটা পারছে প্রতিরোধ করছে। ইসরায়েল যতটা সহজে হামাসকে গুঁড়িয়ে দেবে ভেবেছিল তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে শেষ পর্যন্ত হামাস পরাজিত হবে। এজন্য সামরিকভাবে ইসরায়েলকেও বড় মূল্য গুনতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: প্রতিদিনের বাংলাদেশ