চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ধড্ডা পপুলার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অভিভাবকদের তোপের মুখ স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
শনিবার সকাল ১০টায় নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগেই অভিভাবক ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে নিয়োগ কমিটি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা।
প্রধান শিক্ষককের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবাদ মিছিল করে অভিভাবকরা ও স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ একক স্বেচ্চাচারিতায় নিয়োগ কমিটিতে ডিজি প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রধান শিক্ষকের পছন্দের দেয়া নাম। ডিজি প্রতিনিধি মতলব দক্ষিণ জেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারী প্রধান শিক্ষক জোৎস্না আক্তারের বান্ধবীর স্বামী এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হাজীগঞ্জের পিরোজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান প্রধান শিক্ষকের ক্লাসমেট।
চাঁদপুর সরকারি কলেজে একই বিভাগে পড়াশুনা করেন। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এ নিয়োগ কমিটি সাজানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন ছিলেন নিরব ভূমিকায়। বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এ নিয়োগ কমিটি সাজানো হয়েছে। এতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আগের রাতে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার গুঞ্জন ওঠে।
সকাল ৯টায় প্রধান শিক্ষক জোৎন্সা আক্তার বিদ্যালয়ে প্রবেশ করার পরপরই অভিভাবক ও স্থানীয়রা জড়ো হতে থাকে। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে বাঁধা দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে হট্টোগোল সৃষ্টি হয়। পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
দীর্ঘদিন জটিলতা কাটিয়ে গত ১৫দিন পূর্বে সহকারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা করা হয়। এতে ১৫জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আবেদন জমা দেয়। এদের মধ্যে ১২জন চূড়ান্ত হয়। ৮জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চায়। এদের বাঁধা দেয় অভিভাবকরা। বিদ্যালয় থেকে ৩জন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। তবে সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমানকে নিয়ে আপত্তি জানায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা।
এ মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দিতেই যত চেষ্টা প্রধান শিক্ষকের। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন ডিজি প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তোপের মুখে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোৎস্না আক্তার বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয়রা বাঁধা প্রয়োগ করে। এলাকার একজন শিক্ষক রয়েছে তার পক্ষে লোকজন জড়ো হয়ে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তবে এ নিয়োগে আমার কোন হাত নেই।