মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর গ্রামের বজেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের ছেলে শিফন চন্দ্র বর্মন (২৮) গেলো ১৬ অক্টোবর চাঁদপুর ষোলঘর বিটি রোড এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি পর না পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় নিঁখোজ ডায়েরী (নং-১১৫৫) করেন।
পরবর্তীতে নিঁখোজ ব্যক্তির সন্ধানে তার আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন স্থানে নিঁখোজ ব্যক্তির পরিচয়, ছবি এবং যোগাযোগের নাম্বারসহ সন্ধান চাই মর্মে পোস্টার লাগান। অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর হতে পোস্টারে ব্যবহৃত নাম্বারে কল দিয়ে উক্ত ব্যক্তির সন্ধান দেয়ার কথা বলে নগদ দুই লক্ষ টাকা দাবি করেন। বিষয়টি জেলা পুলিশের দৃষ্টিগোচর হলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম উক্ত ব্যক্তির সন্ধান ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁদপুর ডিবি পুলিশকে অনুসন্ধানের নির্দেশ প্রদান করেন।
চাঁদপুর ডিবি পুলিশ উক্ত মোবাইল নাম্বারের সূত্রধরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তিন শিশুকে সনাক্ত করে ডিবি অফিসে নিয়ে আসেন।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২১ আগস্ট তারিখ বিকালে তারা খেলাধুলা করতে মাঠে আসার সময় মাঠের পাশে “নিঁখোজ ব্যক্তির সন্ধান চাই” মর্মে পোস্টারের মোবাইল নাম্বার দেখতে পেয়ে উক্ত নম্বরে কল দিয়ে নিঁখোজ ব্যক্তির সন্ধান দেয়ার কথা বলে নগদ দুই লক্ষ টাকা দাবি করে। এ বিষয়টি তারা তিনজন টেলিভিশনে ক্রাইম পেট্রোল ও সিনেমার কাহিনী দেখে প্রতারনার এ কৌশল রপ্ত করেছে বলে জানায়। ডিবি পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাদের অপরাধমূলক কোনো তথ্য না থাকায় তাদের পিতা-মাতার জিম্মায় প্রদান করা হয়।
শিশুদের মুঠোফোনে (মোবাইল), ইন্টারনেট ব্যবহার ও গেমস এর বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে তাদের আচরন পরিবর্তন হয়। এতে শিশুদের শারীরিক ও মানষিক বিকাশে বাঁধাগ্রস্থ হয়। ফলে শিশুরা মোবাইল ফোনের ও টিভির বিষয়বস্তু অবিকল নকল করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে।
এ ঘটনায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম জানান, শিশুদের একাকিত্ব দূর করার জন্য বই পড়ার পাশাপাশি খেলা-ধুলার অভ্যাস তৈরী করতে হবে। নিজেদের ব্যস্ততার কারণে সন্তানরা যাতে মোবাইলে আশক্তি ও টিভিতে ক্রাইম সিরিয়াল দেখে কোন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সচেতন হওয়া জরুরী।