জীবিকার তাগিদে ছেলে ২৫ বছর যাবৎ সৌদি প্রবাসী। তাঁর আয়ে স্বচ্ছল এখন পরিবার। উপকৃত হয়েছেন নিকট আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার মানুষও। মা তফুরা বেগমের ইচ্ছে ছেলে মো. আলম বকাউল হেলিকপ্টারে করে গ্রামে বাড়িতে ফিরবেন। ছেলে পূরণ করলো মায়ের আশা। হেলিকপ্টারে করে বাড়ি ফিরলেন তিনি। সাথে ছিলো মা-বাবা।
তিনি গত ২৫ বছর যাবৎ সৌদিআরবে ছিলেন। ৩ বছর পর দেশে ফিরলো। শনিবার দুপুরে মা-বাবাসহ তাকে নিয়ে হেলিকপ্টারটি মুকুন্দসার গ্রামের চাঁনখার ভিটায় অবতরণ করে। এতে বেজায় খুশি তার মা ও গ্রামবাসী।স্থানীয়রা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় তাকে।
সৌদিআরবের তাবুক প্রদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত মো. আলম বকাউল। তার বাবা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, মুকুন্দসার গ্রামের বকাউল বাড়ির মো. আব্দুর রহিম বকাউল।
মো. আব্দুর রহিম বকাউল ও তফুরা বেগম দম্পতির তৃতীয় ছেলে মো. আলম বকাউল। গ্রামের মানুষ কখনো হেলিকপ্টার কীভাবে মাটি ছোঁয় তা দেখেননি। মায়ের সেই ইচ্ছা পূরণ করলো আলম বকাউল।
এদিকে আলম বকাউল তার মাকে নিয়ে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে বাড়ি ফিরবেন এমন খবরে গ্রামের কয়েক শতাধিক উৎসুক নারী, পুরুষ ও শিশু চাঁনখার ভিটায় ভিড় জমান। এদিন বেলা ১১টার থেকে তারা অপেক্ষা করে, শেষ পর্যন্ত দুপুর দুইটার সময় হেলিকপ্টারটি অবতরণ করেন পাইলট।
আব্দুল মান্নান ও মালতি রানী সাহাসহ কথা হয় কয়েকজন গ্রামবাসীর সাথে। তারা জানান, জীবনে কখনো হেলিকপ্টার এতো কাছ থেকে দেখিননি। প্রচণ্ড বাতাসে যেন চারদিকে যেন ভূমিকম্প। অন্যরকম অনুভূতি পেয়েছেন তারা। তারা বলেন, আলম ভালো মানুষ। সুখে-দুখে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
এক প্রতিক্রিয়ায় মো. আলম বকাউল জানান, মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে এবং গ্রামের মানুষ হেলিকপ্টার দেখেছে। তাতেই ভালো লাগলো। মা খুশি, এলাকার মানুষ খুশি, তিনিও খুশি।
পপুলার বিডিনিউজ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর