শাহরাস্তিতে গৃহ পালিত বিড়াল হত্যার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন মন্টু মজুমদার। ঘটনাটি উপজেলার নিজমেহার দক্ষিন পাড়া মজুমদার বাড়িতে ঘটে। এবিষয়ে গৃহস্থ্য মন্টু মজুমদার বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের তিনি বলছেন, গত বৃহস্পতিবার তার বাসা থেকে বিড়ালটি বের হয়। কিছুক্ষণ পর মন্টু মজুমদারের স্ত্রী রানু রানী সরকার মারধরের শব্দ শুনে বাসা থেকে বের হয়। তখন তিনি দেখতে পান পাশের বাসার ডাঃ কমলের স্ত্রী সুখলা দে বিড়ালটিকে কাঠের চেলি দিয়ে বেদম প্রহার করে। ঘটনায় বিড়ালটি গুরুতর আহত হয়। শুক্রবার বিকেলে মন্টু মজুমদার থানায় গিয়ে ডাঃ কমল মজুমদারের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
শনিবার সন্ধ্যায় বিড়ালটিকে আবারও থানায় নিয়ে গেলে ডিউটি অফিসারের সামনে বিড়ালটি মারা যায়। এতে মন্টু মজুমদারের কন্যা মল্লিকা মজুমদার (১৪) ও পুত্র অপূর্ব মজুমদার (১১) কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের কান্নায় আশপাশের লোকজন ভীড় জমায়।
এ ব্যাপারে মন্টু মজুমদারের কন্যা মল্লিকা মজুমদার বলেন, বিড়ালটি তাদের পালিত ছিলো। বিড়ালটি তাদের সব কথা শুনতো। সে বিড়ালটি নেই, এটা ভাবতে পারছেন না তারা।
মন্টু মজুমদারের স্ত্রী রানু রানী সরকার বলেন, ডাঃ কমলদের সাথে সম্পত্তিগত বিরোধ রয়েছে। কমলের স্ত্রী সুকলা দে সব সময় বাড়িতে তাদের সাথে বিরোধাচরন করে। সুযোগ পেয়ে আমাদের বিড়ালটি তার ঘরে আটক করে বেদম মারধর করে। অবশেষ বিড়ালটি মারা যায়। বিড়াল হত্যাকারীর বিচার চান তিনি।
সন্তানদের কান্নায় মন্টু মজুমদারও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বিড়ালের ভালোবাসা কোন ভাবে তিনি ভুলতে পারছেন না।
অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পান শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক জুলফিকার।।
এদিকে শত বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে প্রাণীর কল্যাণে নতুন একটি আইন করেছে সরকার। শিরোনাম ‘প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯’। যদিও প্রাণী রক্ষায় আইনটি তেমন একটা কাজে আসছে না।
আইন প্রণয়নের পরও এ পর্যন্ত ১০টির মতো মামলা হয়েছে। ঘটনা বেশি হলেও মামলার সংখ্যা কম।
তবে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে মেজো বিড়াল হত্যার দায়ে এক বছর পর আদালত আসামীর দশ হাজার টাকা জরিমানা করে রায় প্রদান করেন।