বাঙালি রান্না মানেই হচ্ছে একটু টক – ঝাল আর মিষ্টির সমন্বয়। রান্নার দিক দিয়ে বাঙালীদের তুলনা নেই। বাঙালী বলতে সাধারনত যারা বাংলা ভাষায় কথা বলে তারাই মুলত বাঙালী রান্না পছন্দ করে থাকে । পশ্চিমবঙ্গ সহ বাংলাদেশর প্রায় সকল গৃহে বিভিন্ন বাঙালি রান্নার পদ তৈরি হয়ে থাকে। বাংলা মাছ এবং ধান এর ভূমি হিসাবে বিখ্যাত। বাঙালিরা এই দুটি খাবারের সাথে একটি অপরিবর্তনীয় সম্পর্ক ভাগ করে নেয় যা প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই প্রধান খাদ্য হিসেবে পরিচিত। মাছের মধ্যে রুই ,পাবদা, চিংড়ি এবং ইলিশ বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও ,বাঙালি খাবারে আলু পোস্তো থেকে শুরু করে বিভিন্ন মিষ্টান্ন যেমন রসগোল্লা বা সন্দেশের জন্য বিখ্যাত।
আমরা আপনাদের কাছে বাংলার সেরা ১০ টি পদ নিয়ে এসেছি । এই ঐতিহ্যবাহী বাংলা রেসিপি গুলি দেখুন যা আপনার অবশ্যই পছন্দ হবে:
১. ডাব চিংড়ি:
ডাব চিংড়ি একটি চিংড়ি মাছের বাংলা রেসিপি যা বাঙালীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এটি অনন্য রান্নার কৌশল এবং অবশ্যই এর অনিবার্য স্বাদ এবং গন্ধের জন্য বিখ্যাত। এর প্রস্তুতিতে চিংড়িগুলি ডাবের খোলের ভিতরে নারকেল-সরিষা-পোস্ত বাটার সাথে রান্না করা হয়। এই সুস্বাদু বাঙালি মাছের পদটি বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান যা বাঙালি রেস্তোঁরাগুলির মেনু কার্ডে শীর্ষ স্থান দখল করেছে। গরম গরম ভাতের সাথে খেতে এটি অতুলনীয় লাগে।
২.লুচি আলুর দম:
অলস রবিবারের সকালের জলখাবারের জন্য লুচি আলুর দম বাঙালির পছন্দসই সমন্বয়। এতে লুচি থাকে যা অনেকটা পুরির মত এবং এটি আলুর দমের সাথে খাওয়া হয় যা হালকা মশলাযুক্ত এবং কিছুটা মিষ্টি আলুর তরকারি। এটি একটি নিরামিষ রেসিপি
৩. কচি পাঠার ঝোল:
রবিবারের মধ্যাহ্নভোজ মাংস ছাড়া হতেই পারে না। কচি পাঁঠার ঝোল আর ভাত যা বাঙালির রসনাতৃপ্তির একেবারে শেষ কথা এই রেসিপিটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে উত্পন্ন হয়েছিল। এটি খাঁটি সরিষার তেলে রান্না করা হয় এবং এতে মশলার একটি সম্পূর্ণ ভাণ্ডার থাকে। আলু ছাড়া এই মাটন কারি অসম্পূর্ণ। এই ঝোলের মূল উপাদানগুলি হল- পেঁয়াজ, রসুন, দই এবং গরম মশলা যা সবুজ এলাচ, দারচিনি এবং লবঙ্গের সংমিশ্রণ।
৪. ভেটকি মাছের পাতুরি:
বাঙালির পাতে পাতুরিপ্রেম নতুন নয়। সে আমিষ বা নিরামিষ যাই হোক না কেন। এক অন্যতম জিভে জল আনা পদ ভেটকি মাছের পাতুরি যা বাঙালির এক সিগনেচার ডিশ। এটি কলা পাতায় জড়িয়ে সরিষা এবং নারকেল বাটা দিয়ে ধীর আঁচে রান্না করতে হয়। স্বাদে আর গন্ধে এটি অতুলনীয়।
৫. শুক্ত:
শুক্ত হ’ল একটি নিরামিষ পদ যা করলা, কাঁচকলা ,মিষ্টি আলু, সজনে ডাটা এবং দুধ দিয়ে তৈরি একটি মিক্স ভেজ যা পাঁচ ফোরণে রান্না করা হয়। এটি যেকোনো মাছ বা মাংসের পদগুলিকেও হার মানাবে। আপনি যদি ঐতিহ্যবাহী শুক্তোর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই বাঙালি পরিবারের একটি দুর্গাপুজোর মধ্যাহ্নভোজনের জন্য নিমন্ত্রিত হতে হবে।
৬. মুড়ি ঘন্ট:
মুড়ি ঘন্ট বাঙ্গালীদের অতি জনপ্রিয় একটি রেসিপি। মুড়ি না থাকলেও এই রেসিপির প্রধান উপাদান হলো ‘মাছের মুড়ো’। আর তাই এমন নামকরণ। চাল এবং মাছের মুড়ো দিয়ে এটি বানানো হয়। সাধারণত রুই মাছ বা কাতলা মাছের মাথা ব্যবহার করা হয় । মাছের মুড়ো যারা এমনি খেতে অপছন্দ করেন, তারা চালের সহযোগে এমন একটি রেসিপি বানিয়ে দেখতে পারেন।
৭. আলু পোস্ত:
বাঙালি মাত্রেই পোস্তর ভক্ত তাই বাঙালিদের কাছে আর আলাদা করে আলু পোস্তর পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি একটি চিরাচরিত বাঙালি নিরামিষ পদ। সাদা ভাত আর আলু পোস্ত হলে বাঙালির মধ্যাহ্ন ভোজ সম্পূর্ণ।
৮. সন্দেশ:
শেষ পাতে মিষ্টি না হলে বাঙালির মন ভরে না। সন্দেশ দুধের ছানা দিয়ে তৈরি একধরনের উপাদেয় মিষ্টান্ন। ছানার সাথে চিনি বা গুড় মিশিয়ে ছাঁচে ফেলে সন্দেশ প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। রসগোল্লার মতোই সন্দেশ বাঙালিয়ানার প্রতীক।
৯. সর্ষে ইলিশ:
বাংলায় এক অতি প্রিয় মাছ হিসাবে ‘ইলিশ’ খুবই জনপ্রিয়। এর অনন্য স্বাদ এবং রৌপ্যময় আবেদন এটিকে ‘মাছের রানী’ করে তুলেছে। এই সর্ষে ইলিশ বা ইলিশ ভাপা একটি সুস্বাদু মাছের রেসিপি যার মূল উপকরণ হলো সর্ষে বাটা ,কাঁচা লঙ্কা এবং খাঁটি সর্ষের তেল। এটি ভাত বা খিচুড়ির সাথে একটি সাইড-ডিশ হিসেবে পরিবেশন করা হয়।
১০. রসগোল্লা:
মিষ্টি হল বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বাঙালিদের যেকোন অনুষ্ঠান মিষ্টি ছাড়া অপূর্ণ থেকে যায়। এর মধ্যে রসগোল্লার স্থান সবার উপরে। রসগোল্লা সাদা রঙের এক প্রকার ছানার মিষ্টি যা চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি হয়। ছানা পাকিয়ে গরম রসে ডুবিয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়। বাঙালি বা অবাঙালি সবার কাছেই রসগোল্লা একটি জনপ্রিয় মিষ্টি।