শেষ মুহুর্ত্বে এসে জমে উঠেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার নির্বাচন। ১৭ জুলাই সোমবার অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহন। এ নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন ৪ জন।
তারা হলেন, আ’লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী আরিফ উল্লাহ সরকার, জাতীয় পাটির লাঙ্গল প্রতিকের মো. সেলিম মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতিকের নুরুল হক সরকার ও ওয়াদুদ মাস্টার মোবাইল ফোন প্রতিক।
নির্বাচনে আ’লীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় আরিফ উল্লাহ সরকার সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সকল পর্যায়ের নেতা কর্মী ও সমর্থকেরা এক হয়ে তার পক্ষে কাজ করছেন। সে কারনেই এবার নৌকার জয়ের আশা করছেন তারা।
অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নূরুল হক সরকার নারিকেল গাছ প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। তিনি বিএনপির সাবেক নেতা। তাই বিএনপির কর্মীরা গোপনে তার সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং তার পক্ষে কাজ করছেন। তবে দলীয়ভাবে বিএনপির উপর মহলের নেতারা তার পক্ষে মাঠে নামেনি। নূরুল হক সরকারের সহধর্মিণী মিসেস আমেনা বেগম এই পৌরসভার দুইবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। সুতরাং তারও যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ও জনসর্মথন রয়েছে। গত ১৫ জুলাই নুরুল হক সরকারের গনসংযোগে নৌকার কর্মীরা বাঁধা দেয় এবং মারধর করে গুরতর আহত করে। এ ঘটনায় সমালোচনার মুখে নৌকার সর্মথকরা। এছাড়াও এ নির্বাচনে আরো অপর দুই মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। তারা প্রচার প্রচারনায় থাকলেও জনপ্রিয়তা তেমন নেই।
সাধারন ভোটারদের অভিমত মুলত এবারের নির্বাচনে নৌকা ও নারিকেল গাছ প্রতিকের প্রার্থীর মধ্যেই মুল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। নৌকার প্রার্থী আরিফ উল্লাহ সরকার বলেন, ঐক্যবদ্ধ আ’লীগের নৌকার জোয়ার উঠেছে। উন্নয়নের স্বার্থে সবাই নৌকায় ভোট দিবে। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
নূরুল হক সরকার বলেন, সাধারন ভোটারেরা অপেক্ষায় আছে ভোট দিতে। আমার অনেক ভোটার সর্মথক রয়েছে । যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আমি আল্লাহর রহমতে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো।
ছেংগারচর পৌরসভারটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। জন্মলগ্ন থেকে এ পৌরসভাটিতে নির্বাচন হয়েছে মোট ৫টি। এই ৫টি নির্বাচনের আ’লীগ জয় পেয়েছে ৩ বার ও বিএনপি জয় পেয়েছে ২ বার। এ হিসাবে এ পৌরসভার নির্বাচনের ফলাফলে আ’লীগ এগিয়ে।
ছেংগারচর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন এবং সাধারন কাউন্সিলর পদে ৫১ জন প্রার্থী অংশ গ্রহণ করছে। এবারই প্রথম এ পৌরসভার নির্বাচন ইভিএমে অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩’শ ৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ২জন এবং নারী ভোটার ১৬ হাজার ৩’শ ৩৪ জন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন আছে। এ পৌরসভা নির্বাচনে কেন্দ্র ১৬ টি। শান্তিপূন্য নির্বাচনের লক্ষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ জন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৫ জন,৭ টি মোবাইল টিম, র্যাব, বিজিবি, ও পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ ও আনসার মোতায়েন আছে।