কোরবানি ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুরের খামরী ও মৌসুমী পশু ব্যবসায়ীরা। প্রশাসন থেকে ইতোমধ্যে পশুর হাট-ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া শেষ করেছেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বসতে শুরু করেছে কোরবানীর পশুর হাট। এদিকে জেলায় সবচেয়ে বড় গরু কালা মানিককে দেশসেরা বলে দাবী করছেন খামারী। ৪৫ মণ ওজনের কালা মানিক দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় থাকলেও নেই ক্রেতা। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বলছেন, জেলায় এবার কোরবানীর পশুর অর্ধেক চাহিদা মিটাবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
চাঁদপুরে ঈদুল আযহাকে ঘিরে আট উপজেলায় পশুর হাট বসছে প্রায় দুই শতাধিক। গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় খামারীরা গরুর ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা। জেলায় দুই হাজার খামারীর তুলনায় মৌসুমী ব্যবসায়ীর সংখ্যাই বেশি। এদিকে জেলার সবচেয়ে বড় গরু কালো মানিক। এটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাটোয়ারী বাজারে মায়ের দোয়া ডেইরি ফার্মে লালন-পালন করা হচ্ছে। গত বছর ক্রেতা সংকটের কারণে বিক্রি না হলেও এবার বিক্রির প্রত্যাশা মালিক পক্ষের। ৪৫ মণ ওজনের কালো মানিকের এবার দাম হাঁকানো হয়েছে ২৫ লাখ টাকা।
তার গায়ের রং কুচকুচে কালো হওয়াতেই নাম দেওয়া হয় কালো মানিক। প্রতিদিন দুই বেলা শ্যাম্পু দিয়ে গোসল। ঘাস, খৈল, ডাল আর গমের ভূসি কালা মানিকের পছন্দের খাবার। পানি ছাড়াই প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০ কেজি খাবারের প্রয়োজন কালো মানিকের। এছাড়াও সবসময় ফ্যানের নিচে রাজকীয় ভাবে রাখা হয়। গত বছর ক্রেতা সংকটের কারণে বিক্রি না হলেও এবার বিক্রির প্রত্যাশার কথা জানায় মালিক পক্ষ। প্রতিদিনই এই বিশাল দেহের ষাঁড়টিকে দেখতে দূর দূরান্ত থেকে এসে মানুষ ভিড়ি করে।
মায়ের দোয়া ফার্মের পরিচর্যাকারী রেজাউল করিম বলেন, উচ্চতা ৮ ফুট ও লম্বা ৯ ফুট বেড়ে ১০ ফুট সাইজের কালা মানিককে লালন-পালন করতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয়। গত বছর ক্রেতা সংকটে বিক্রি হয়নি। এ বছর গরুটির দাম ধরা হয়েছে ২৫ লাখ।
চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো. মকবুল হোসেন জানান, চাঁদপুর খামরীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে এবারও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চাহিদা মেটাবে। দেশের মিডিয়ার প্রচারে অনলাইনের মাধ্যমে পশু কেনাবেচা হয়। তাই বড় ধরনের গরু অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির পরামর্শ দিলেন প্রাণী সম্পদ বিভাগের এই কর্মকর্তা।
তিনি আরো জানান, জেলায় গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৭০ হাজার ২ শত ৩০ টি। এরমধ্যে ২ হাজার ৭শ ৬০ টি খামার ও কৃষক মিলে জেলায় ৩৫ হাজার ৪ শত ২ টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। ঘাটতি রয়েছে ৩৪ হাজার ৮ শ’ ২৮ টি পশুর। এই ঘাটতি মিটাবে জেলার মৌসুমী পশু ব্যবসায়ীরা।