চাঁদপুর-কুমিল্লা জোনে বীজ হিসেবে আবাদ হয়েছে সানসাইন জাতের সহ কয়েক জাতের আলু। এ বছর চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টের জমিতে আলুর আবাদ হয়। উৎপাদিত আলু বাজারেই অধিকাংশ বিক্রি হয়। কিন্তু দেশে আলু উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের মাধ্যমে বীজ হিসেবে আবাদ হয়েছে সানসাইন জাতের নতুন আলু। দেশব্যাপী এই বীজ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সংরক্ষণ হচ্ছে বিএডিসি চাঁদপুর আলু জোনের হিমাগারে।
চাঁদপুর- কুমিল্লা জেলার কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) আলু বীজ জোন চাঁদপুরে। চলতি বছরে চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের মাধ্যমে ৪৭ একর জমিতে ৭৫২টন সানসাইন জাতের আলু উৎপাদন হয় এই জোনে। মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে এই জাতের আলু ফলন হয়। চকচকা রঙের এই আলু উৎপাদনের পরিমান দ্বিগুন। বর্তমানে এটি বিক্রি নয়, বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
চাঁদপুর শহরের বাগাদী রোড ইচলী এলাকায় বিএডিসি আলু বীজ জোন হিমাগার। এখানে আগে আলু শ্রমিকদের হাতে বাচাই হতো। এখন নতুন গ্রেডিং সটিং মেশিন ব্যবহার হচ্ছে। মেশনি ব্যবহারে অল্প সময়ের মধ্যে বীজের মান রক্ষার পাশাপাশি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে কম বলে জানান শ্রমিকেরা।
কাজ করতে আসা শ্রেমিকেরা জানান, আগে হাতে বাছাই করতে হতো। এখন গ্রেডিং-সটিং মিশিনের মাধ্যমে বাছাই হয়। সময় কম লাগে। আর সানসাইন জাতের আলু দেখতেও সুন্দর।
বিএডিসি চাঁদপুর আলু বীজ জোনের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এই আলু দিয়ে ভালো চিপস তৈরি হয়। বিদেশেও রপ্তানি হয়। বৈদেশিক আয় করা যায়। আগামীতে কৃষকেরা সানসাইন জাতের আলু আবাদ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানান বিএডিসির এই কমকতা।
তিনি আরো বলেন, শহরের নানুপুরে প্রদশনী দেয়া হয়েছে। ১৭ টি জাতের মধ্যে সানসাইসান জাতের আলু বেশি হয়েছে। এটা সূযের আলোর মতো পরিষ্কার।
বিএডিসি চাঁদপুর আলু বীজ জোনের উপ- পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আলুর উৎপাদনে কয়েকটি জাতের মধ্যে উচ্চ ফলনশীল একটি জাত হচ্ছে সানসাইন। গত দুই বছর চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের মাধ্যমে চাষ হচ্ছে। এটি অন্যান্য জাতের তুলনায় দ্বিগুন ফলন দিচ্ছে। গ্রেডিং সটিং মেশিনের মাধ্যমে এই বীজ সংরক্ষণ করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এই জাতটা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিএডিসির সমস্ত হিমাগার গুলোতে এখন গ্রেডিং সটিং মেশিন বসানো সময়ের দাবী। এটা শ্রমবান্ধব।
দেশে নতুন ১৭ টি আলুর জাত নির্ণয় করা হয়। এর মধ্যে সানসাইন জাতের আলু নিয়ে শতভাগ আশাবাদী আলু বীজ সংরক্ষণের এই অধিদপ্তর।