চাঁদপুরে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটার উৎসব। ইতিমধ্যে জেলায় আবাদকৃত জমির ১৪ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আধা-পাকা ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। আক্রান্ত অধিকাংশ জমিতে ধানের চেয়ে চিটার পরিমান বেশি। এতে ব্যাপক লোকসানের মুখে প্রান্তিক কৃষক। ফলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। আর কৃষি বিভাগ বলছে, দীর্ঘদিন একই জাতের বীজ ব্যবহার করায় নির্ধারিত কিছু জাতে কমেছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাই আগামী মৌসুমে উন্নত জাতের ধানের বীজ চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।
চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী এলাকার কৃষক আসলাম খান। ১ একর জমিতে চাষ করা ধানের ফলন দেখে আশা করেছিলেন এবছর ৫০ মন ধান পাবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে চিটা হওয়ায় পাচ্ছেন মাত্র ১২ থেকে ১৫ মন। তার মতো চাঁদপুরের এমন অনেক কৃষকেরই একই অবস্থা।
এ বছর চাঁদপুরে বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় ২৫ জাতের। তবে কিছু কিছু উন্নত জাতের বীজে ফলন ভালো হলেও ব্রিধান-২৮ ও ২৯ জাতের বীজ শেষ মূহুর্তে ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। প্রতিটি জমির দুই তৃতীয়াংশ ধান চিটা হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের। এতে আধা পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। যদিও অতীতে কখনো এমন হয়নি বলে দাবি তাদের।
এদিকে হতাশা নিয়েও গো খাদ্যের আশায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাটা শুরু করেছেন আধা পাকা ধান। তাই সরকারের কাছে কৃষি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপ-পরিচালক ড. সাফায়েত আহম্মদ সিদ্দিকী বলেন, চাঁদপুরে এ বছর ৬৩ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে ব্রিধান-২৮ চাষাবাদ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে। আর ব্রিধান-২৯ চাষাবাদ হয়েছে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে। যা জেলার মোট চাষাবাদের প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে চাষাবাদকৃত জমির ব্রিধান-২৮ জাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। সমস্যা সমাধানে আগামী মৌসুমী বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে অন্যান্য উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবছর জেলায় ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ৪২১ মে. টন। তবে ধানের কয়েকটি জাতে সমস্যা হলেও উফশী জাতগুলোর মধ্যে ব্রি-৫৮ ধান, ব্রি-৬৭ ধান, ব্রি-৬৯, ব্রি-৮৯ এবং ব্রি-৯২ জাতের ফলন ভালো হওয়ায় নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় কোন প্রভাব পড়বে না দাবি কৃষি অধিদপ্তরের।