নিষেধাজ্ঞার দুই মাস পর চাঁদপুরের আড়তগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না ইলিশ। তবে প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে সরবরাহ বেড়েছে। ইলিশের পাশাপাশি মিলছে চেউয়া, আইড়, চিংড়িসহ দেশীয় মাছ। ব্যবসায়ীরা বলছে, অভিযান সফল হলেও ইলিশের মৌসুম এখনই নয়। মৎস্য বিভাগ বলছে, জুন-জুলাইতে মিলবে কাঙ্খিত ইলিশ।
মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস দেশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। ১ মে থেকে নদীতে নেমেছে কয়েক হাজার জেলে। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা দিয়েছে বেশি। তবে আকারে ছোট সাইজের ইলিশ বেশি। ধীরে ধীরে সাগর থেকে ইলিশ পদ্মা-মেঘনায় ফিরবে বলে প্রত্যাশা জেলেদের। এদিকে দুই মাস পর ইলিশ ঘাটে ইলিশ ক্রয় করতে এসে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতারা। তারা বলছেন, দাম নাগালের বাহিরে।
ক্রেতা হাসিনা বেগম ও কামরুল ইসলাম বলেন, ইলিশের সাইজ ঠিক আছে। কিন্তু দামটা বেশি। দুই মাস পর এলাম। কিন্তু দামটা আর একটু কম হলে ভালো হতো।
চাঁদপুর বড় স্টেশনের ইলিশ মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেলেদের নতুন জালসহ নদীতে নামতে দ্বিগুণ খরচ হয়েছে। ধীরে ধীরে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমানোর সুযোগ নেই।
নিয়মিত অভিযান হওয়ায় জাটকা সাগরে ফিরে যেতে পেরেছে। জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টি শুরু হলে সাগর থেকে ইলিশ ঝাঁকে ঝাঁকে নদীতে ফিরবে বলে দাবী চাঁদপুর সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা তানজিমুল ইসলামের। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, জোয়ার-ভাটার পর পূণিমাতে ইলিশ মিলবে।
দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের ইলিশ ১৫০০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। এবার বিগত বছরের তুলনায় ইলিশ উৎপাদন বাড়বে বলে মতামত জানিয়েছেন মৎস্য বিভাগ। গত দুই মাস চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরবৈরভী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সকল প্রকার মাছ ধরায় ছিলো নিষেধাজ্ঞা। এতে দুই মাস অলস সময় কাটিয়েছেন চাঁদপুরের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক জেলে। তবে অভিযানকালে জেলার নিবন্ধিত ৪৪ হাজার ৩৫ জন জেলেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ৪০ কেজি করে ৪ কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি চাল খাদ্য সহায়তা দেয় সরকার।