POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত চাঁদপুরের চরাঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দা: নেই কোন চিকিৎসক

পপুলার বিডিনিউজ রিপোর্ট - চাঁদপুর | প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৩ | সময়: ২:৪৭ অপরাহ্ণ

চাঁদপুর জেলার মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৩০টিরও কমবেশি চরাঞ্চল রয়েছে। এসব এলাকার মানুষ এখনো স্বাস্থ্য সেবার জন্য দুর্গম পদ্মা-মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়। কয়েক বছর পর পর নদীর ভাঙা গড়ার খেলায় মাথা গোজার ঠাঁই হারাতে হয়, তারপর আবার স্বাস্থ্যসেবার শঙ্কা। কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি হলেও সেগুলো নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের। তবে স্থায়ী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র তৈরীর পরিকল্পনার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেলো, চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে মেঘনা নদীর পশ্চিমের চরাঞ্চলে দুই ইউনিয়নে প্রায় ২৮ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের প্রায় ১৬ হাজার বাসিন্দার জন্য মাত্র একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। আর ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে ১২ হাজার লোকের জন্য দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক। ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও নেই কোন চিকিৎসক। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারই চিকিৎসকের চাহিদা পূরণ করছেন।

গত কয়েক বছরে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। যার কারণে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু প্রাথমিক চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় পরিবারের। রাতের বেলায় কোন যানবাহন না পেলে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে ট্রলারে করে নদী পাড়ি দিতে হয়। আর না হয় সনাতন পদ্ধতিতে স্থানীয় দাইদের মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। চরাঞ্চলে একটি ভাসমান বা স্থায়ী হাসপাতালের দাবী চরের বাসিন্দাদের।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের বাঁশগাড়ী খান বাজারের বাসিন্দা ইসমাইল মোল্লা ও আবদুস সামাদ খাঁন। তারা স্বাস্থ্য সেবা প্রসঙ্গে বলেন, রোগী বেশি অসুস্থ্য হলে ট্রলার ভাড়া করে চাঁদপুর শহরে নিয়ে যেতে হয়। সমস্যা পুরাই। রোগীর ওষুধ কেনার চেয়ে বেশি খরচা ২/৩ হাজার টাকা ট্রলার ভাড়া দিতে হয়।

চরের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ফকির ও স্কুল শিক্ষক নবীর ঢালী বলেন, নদী দিয়া ট্রলার ভাড়া করে যেতে হয়। এতে বেশি লঞ্চিত হতে হয়। ডাক্তার ঠিকমতো পাওয়া যায় না। ভর্তি করাতে সমস্যা হয়। একটা হাসপাতাল হলে এলাকার মানুষ অনেক সুবিধা নিতে পারবে। তাদের যাতায়াত খরচ লাগবে না। যেকোন সময় রাতে হোক, দিনে হোক তারা চিকিৎসা নিতে পারবে।

নারী সুচিকিৎসার কোন ব্যবস্থা নেই বলে জানান কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান মিনহা। তিনি বলেন, এখানে গর্ভবতী নারীদের সন্তান প্রসব বেদনা উঠে, তখন দাইদের উপর নির্ভর থাকতে হয়। বিজ্ঞান প্রযুক্তি যুগে মানুষের জীবনমানের অনেক উন্নত হলেও চরাঞ্চলে এর ছোঁয়া নেই। গ্রামের অনেক আগের প্রচলিত জিনিস ব্যবহার করে নিতে হয় চিকিৎসা সেবা। যেমন হাত-পা কেটে গেলে হলুদ লাগায়। এরকম জিনিস ব্যবহার করে অনেক রোগের চিকিৎসা নিয়ে থাকে। চরে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য একটা চিকিৎসা কেন্দ্র হলে ভালো হয়।

গৃহবধূ শিউলী আক্তার বলেন, বাচ্চাদের অসুস্থ হলে চাঁদপুরে নিতে হয়। ভাড়া বেশি লাগে। ৪/৫ হাজার টাকা খরচা হয়ে যায়।

চরের একমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আলহাজ্জ মাওলানা এএইচএম হাবিব উল্লাহ বলেন, যদি একটা ভাসমান চিকিৎসা কেন্দ্র হয়। তাহলে ভালো হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুদৃষ্টি দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

রাজরাশ্বের ইউনিউনের একমাত্র চিকিৎসালয় বলাশিয়া কমিউনিটি সেন্টার। ওই সেন্টারের প্রোভাইডার নূর মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা আমরা এখানে দিয়ে থাকি। গুরুতর হলে জেলা সদর হাসপালে রেফার করানো হয়। এখানে ২৮ পদের ওষুধ রয়েছে। ওই ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। বিগত তিন মাস ধরে মেডিকেল অফিসার পদ শূণ্য। পূর্বে চিকিৎসক ছিলো।
দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চিকিৎসার জন্য নদী পথ পাড়ি দেয়া ছাড়া উপায় নেই। স্থায়ী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র তৈরি করলে মানুষের উপকার হবে বলে জানান রাজরাজেশ^র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হজরত আলী বেপারী। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে আরো বলেন, চরের মানুষগুলো মারাত্মক অসুস্থ্য হয়ে পড়লে নদী পথ ছাড়া কোন বিকল্প পথ নেই। এখানে একটি হাসপাতাল খুবই প্রয়োজন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, চরাঞ্চরের মানুষের স্বাস্থসেবা দিতে নতুন করে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারীরা সেখানে গিয়ে এখনো শিশু ও মায়েদের সেবা দিচ্ছেন। নদী শাসন করে স্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র করা হলে চিকিৎসা সেবার সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। তখন রাতে ও দিনে চিকিৎসা সেবা নিতে সদস্যায় পড়তে হবে না। চরের মানুষ সেবা নিতে আগ্রহী। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

E/N

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন