POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

ইফতার ক্ষমা লাভের মোক্ষম সময়

পপুলার বিডিনিউজ ডেস্ক - চাঁদপুর | প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৩ | সময়: ৫:২১ পূর্বাহ্ণ

ইফতারের আগের সময়টি মহিমান্বিত এক মুহূর্ত। বরকতের জান্নাতি চাদরে ঘেরা ক্ষণ। ইমানি চেতনায় সিক্ত হওয়ার; জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মুহূর্ত। আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নেওয়ার মুহূর্ত। কারণ, এ মুহূর্তে রোজাদারের অনুভূতি থাকে শাণিত; অন্তর থাকে স্বর্গীয় অনুভূতিতে আন্দোলিত।

ইফতারের আগের সময়টি বরকতময় মুহূর্ত। কারণ, তখন আপনি নিজেকে করে তোলেন বরকত লাভের পাত্র। আপনার জীবন-মরণ, ভালোবাসা, প্রত্যাশা, ইবাদত-প্রার্থনা সবই যে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালাকে ঘিরে, তা আপনি প্রমাণ করে দেন শতধা ধারায়। ক্ষুধার করুণ রোদন, পিপাসার বুকফাটা কান্না আপনাকে বিচলিত করে না এতটুকুও; সামান্যতমও সরাতে পারে না স ষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে। আপনি অপেক্ষায় থাকেন, কখন আসবে মহান রবের নির্দেশ; বাজবে অনুমতির আসমানি ঘণ্টা। এটাই হলো তাকওয়া, যা অর্জনের জন্য এসেছে মাহে রমজানের রোজা। অন্য কথায় বলতে গেলে ইফতারের মুহূর্তে আপনার ইমানে সঞ্চিত হয় নতুন দৃঢ়তা; আপনার তাকওয়ার বৃক্ষে উদ্গত হয় নতুন পত্রপল্লব। আপনি অনুভব করতে থাকেন মাবুদ রাব্বানার নৈকট্য। এ কারণেই মহানবি (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘রোজাদারের আছে দুটি আনন্দ-ইফতারের মুহূর্তের আনন্দ এবং প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ মুহূর্তের আনন্দ।’ (মুসলিম)।

সারা দিনের উপবাসযাপনে পুষ্ট হয় আপনার আত্মা। আর এ পুষ্ট আত্মা থেকে যে প্রার্থনা উত্থিত হয়, তা কবুল না হয়ে পারে না। তাই তো প্রিয় নবি (সা.) অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না ১. ন্যায়পরায়ণ শাসক; ২. রোজাদার যখন ইফতার নেয়; এবং ৩. মাজলুম ব্যক্তির দোয়া।’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)। অন্য এক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইফতারের সময় রোজাদারদের জন্য একটি দোয়া নিশ্চিতরূপে বরাদ্দ থাকে, যা কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (ইবনে মাজাহ)।

ইফতারের মুহূর্ত এ জন্যও বরকতময় যে, এ মুহূর্তে আল্লাহর দেওয়া রিজিক সম্পর্কে আপনার অনুভূতি আন্দোলিত হয়। আপনি ভাবতে থাকেন যে, ইফতার গ্রহণের যাবতীয় সামগ্রী আল্লাহতায়ালার রিজিক ভিন্ন অন্যকিছু নয়। কেননা পানীয় অথবা খাদ্য হিসাবে আপনি যা গ্রহণ করছেন, তা সৃষ্টির পেছনে আপনার আদৌ কোনো হাত নেই। এমনকি এ খাদ্য-পানীয় প্রস্তুতকরণে আপনি যে মেধা ও শক্তি ব্যয় করেছেন, একমাত্র আল্লাহতায়ালার দান। এ জন্যই আপনার জবান থেকে বের হয়ে আসে, ‘হে আল্লাহ আমি আপনার উদ্দেশ্যেই রোজা রেখেছি এবং আপনার রিজিক দিয়েই ইফতার করেছি।’ ইফতার শেষে প্রিয় নবি (সা.) বলতেন, ‘চলে গেছে পিপাসা, সিক্ত হয়েছে শিরা এবং নিশ্চিত হয়েছে সওয়াব, ইনশাআল্লাহ।’ (আবু দাউদ)।

হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি ইফতারের সময় অনেককেই আল্লাহতায়ালা আগুন থেকে মুক্তির ঘোষণা দেন।’ (আহমদ)।.

এ মুহূর্তের খাবারও যেন বরকতময় খাবার হয়, সে ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে। খেজুর হলো বরকতময় খাবার, বিশেষ করে তা যদি হয় বেজোড় সংখ্যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) সব সময় বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খেতেন বলে বর্ণনায় পাওয়া যায়। হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তিনটি খেজুর খেয়ে ইফতার গ্রহণ করতে পছন্দ করতেন। (ইবনে হাজার)। অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজের আগে কয়েকটি তাজা খেজুর খেয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনা খেজুর; আর তা-ও না পেলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন।’ (আবু দাউদ ও তিরমিজি)।

E/N

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন