জন্মের পর বাবাকে দেখিনি, শেষবারের মতো বাবার লাশটা দেখতে চাই। সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দেবিদ্বারের গিয়াসের ছোট মেয়ের এমন আকুতি। সাত বছর পর রোববার দেশে ফেরার কথা ছিল গিয়াস উদ্দিনের।
বুধবার দুপুরে সরেজমিন নিহত গিয়াস উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি। গিয়াসের ছয় বছরের ছোট মেয়ে আমেনা বাবার লাশ দেখতে চাচ্ছে আগত আত্মীয়-স্বজনদের কাছে। বারবার একই কথা বলছে বাবাকে দেখব, আমি বাবাকে দেখিনি। ছোট এই শিশুর কান্নায় চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না কেউই।
সাত বছর আগে শেষবার দেশে এসেছিলেন গিয়াস উদ্দিন। কথা দিয়েছিলেন ওমরাহ শেষে বাড়ি ফিরবেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করবেন। কথা অনুযায়ী সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে রেখেছিলেন, আগামী রোববার তার দেশে ফেরার কথা; কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।
ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে পবিত্র নগরী মক্কায় যাওয়ার পথে সৌদি আরবের আসির অঞ্চলের আবহা জেলায় ৪৭ যাত্রী নিয়ে একটি বাস ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই দুর্ঘটনায় ২৪ সহযাত্রীর সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন গিয়াসও।
নিহত মো. গিয়াস উদ্দিন উপজেলার রাজামেহার গ্রামের মীর বাড়ির আবদুল হামিদ মীরের ছেলে। ২০০১ সালে সংসারের সুখের জন্য সৌদি আরব গিয়েছিলেন। বৈবাহিক জীবনে তিনি এক ছেলে, দুই মেয়ের বাবা। বড় ছেলে মো. আবদুর রহমান (১৫), মেয়ে সাদিয়া (১২) ও আমেনা (৬)। ছোট মেয়ে আমেনা জন্মের পর স্বচক্ষে তার বাবাকে দেখেনি।
নিহত গিয়াসের ছোট মেয়ে আমেনা বলে- আমি বাবাকে দেখিনি, বাবার লাশটা দেখতে চাই। তোমরা বাবার লাশ এনে দাও।
নিহত গিয়াসের স্ত্রী রাবেয়া বেগম জানান, রোববার তার স্বামী দেশে আসার কথা। সাত বছর আগে স্বামী দেশে এসেছিল। স্বামী যাওয়ার পর তার ছোট মেয়ের জন্ম হয়। সেই মেয়ে একদিনের জন্য বাবার দেখা পায় নাই, পায়নি বাবার আদরও। সে এখন শুধু তার বাবাকে দেখতে চায়। আপনারা আমার মেয়ের দিকে তাকিয়ে আমার স্বামীর লাশটা দেশে এনে দেন। আমার মেয়ে তার বাবাকে একনজর দেখুক।
সূত্র: যুগান্তর
E/N