চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় বৃষ্টির অভাবে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। চলতি মৌসুমে গাছে প্রচুর মুকুল আসে। তারপর আবার বৃষ্টির অভাবে ঝরে যাচ্ছে গুটি। মুকুলগুলো রোধে পুড়ে নষ্ট হয় ।
শুকিয়ে ঝরে পড়ছে মুকুল। আম গাছের নিচে গেলে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য গুটি ঝরে পড়ে আছে।কোনোভাবে রোধ করতে পারছে না। যে মুকুলে গুটি আসেনি রৌদ্রের কারণে সেগুলো পুড়ে ঝরে যাচ্ছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলায় তেমন আম চাষি না থাকলেও গৃহস্থীভাবে প্রতি বাড়িতেই কমবেশি আম গাছ রয়েছে। উপজেলায় অন্যান্য ফলের তুলনায় আম গাছ বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আম গাছ নেই এমন বাড়ির সংখ্যা খুবই কম। কিছু এলাকায় ছোট ছোট আমের বাগানো রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, সর্বশেষ উপজেলা শীতের আগে অক্টোবরে বৃষ্টি হয়েছে। তারপর আর বৃষ্টির দেখা মেলেনি। দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় আম নিয়ে বেকায়দায় রয়েছি।
উপজেলার গৃহস্তি গাছের মালিকরা বলেন, বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি পানি দিয়ে ঝরে পড়া রোধ করার। এ বছর বেশিরভাগ গাছে আমের মুকুল এসেছে। তারপরও যে মুকুল এসেছে, সেগুলো ঝরে যাচ্ছে। এ নিয়ে আমরা চিন্তিত।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম বলেন, বর্তমানে রোদ ও গরমের কারণে যে গুটি ঝরছে সেটা স্বাভাবিক। চিন্তার কোনো কারণ নেই। বেশি গুটি ঝরলে গাছে পানি সেচ দিতে হবে। সাধারণত চারটি কারণে আমের গুটি ঝরে। এর মধ্যে পুষ্টির অভাব, পোকার আক্রমণ, রোগের আক্রমণ ও ধারণ ক্ষমতার বেশি হলে। তবে বড় ধরনের ঝড় বৃষ্টি না হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তারপরও গাছে পানি দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।
উপজেলায় এ বছর আম গাছে প্রচুর মুকুল দেখা দিয়েছে। গত মৌসুম অনুযায়ী এবার গাছে আমের মুকুল বেশি হলেও গুটি কম রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পুরন করে বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি সম্ভব।