পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের দুই কর্মচারীর অনৈতিক সম্পর্কের অন্তরঙ্গ ছবি ও ম্যাসেঞ্জার চ্যাটলিস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে করে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তারা দুজন হলেন মতলব উত্তর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সহকারী সাজ্জাদ হোসেন ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডব্লিউএ) ইসরাত জাহান।
২ মার্চ উত্তর ইসলামাবাদ নামে একটি ফেসবুক আইডিতে এসব তথ্য ভাইরাল হয়। পরে ইসলামাবাদ ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলায় এ নিয়ে নানান গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষের মোবাইলে মোবাইলে এসব তথ্য ও দুজনের অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সাজ্জাদ বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক আর ইসরাত গত এক মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
ভাইরাল হওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, দুজন দুজনের সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেছে। শুধু তাই নয় ওই প্রেমিক প্রেমিকাকে বাচ্চা নিতে নিষেধ করেছেন এবং বাচ্চা নিলে প্রেমিক মৃত্যুবরণ করবেন বলেও ম্যাসেজে কথাবার্তা হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কথা কাটাকাটিও হয়েছে।
আরো জানা গেছে, দুজন সরকারি চাকুরিজীবি হয়েও ডিউিটি টাইমে তারা দুজন ঘন্টার পর ঘন্টা ভিডিও কলে কথা বলতো। কর্তৃপক্ষ তাদেরকে কোন মনিটরিং করে না বলেও ভাইরাল হওয়া তথ্যে বলা হয়েছে। এমন ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেও দায়ী করেছে ভাইরাল হওয়া তথ্যে।
তবে অফিস সহকারি সাজ্জাদ ও এফডব্লিউএ ইসরাত জানান, তাদের এমন কোন সম্পর্ক নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ফেসবুক পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়েছিল।
জানা গেছে, অফিস সহকারি সাজ্জাদের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলায়। সে মতলব উত্তর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে অফিস সহকারি (কম্পিউটার) পদে চাকুরী করেন ৭ বছর ধরে। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তান রেখে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছেন।
এদিকে এফডব্লিউ ইসরাতের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলা জঙ্গল ইসলামাবাদ গ্রামে। ২০১৩ সালে তিনি বিয়ে করেন। ২০২২ সালে পারিবারিক কলহের জেড়ে স্বামীকে তালাক দেন। তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে গত ১০ ফেব্রুয়ারী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু তারপরও তিনি পরকীয়া সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন।
মতলব উত্তর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ নুরনবী বলেন, তাদের দুজনের বিষয়ে আমিও সাধারণ মানুষের মত শুনেছি। কিন্তু আমার কাছে কেউ এসে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমি ব্যবস্থা নিতে পারবো।