কেঁচো খুড়তেই সাপ বেরিয়ে আসার মতোই সম্পত্তির দলিল খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো কাবিননামার কাগজ! কিন্তু কার এই কাবিননামা? কাবিননামার কাগজটি পড়তে গিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেই তথ্যে মাথায় হাত দেয়া ছাড়া নিরুপায়। তার স্ত্রী গেলো সাত বছর আগে কোর্ড ম্যারিজের মাধ্যমে ঢাকা ডেমরার এক ছেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। একই সাথে আবার করছেন দুই স্বামীরই সংসার। ওই নারীর বিরুদ্ধে আছে প্রথম স্বামীর কাছ থেকে প্রতারণা করে নগদ ৭৫ লাখ টাকা’সহ কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ।
ঘটনাটি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের মোল্লাডহর গ্রামের সর্দার বাড়িতে ঘটে।
ওই বাড়ির মৃত ছফি উল্ল্যাহর ছেলে শহিদ উল্ল্যাহর সাথে একই গ্রামের মিজি বাড়ির মৃত নুর আহমদের মেয়ে রীনা আক্তার শিল্পির সাথে ১৯৯৫ সালে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের পর স্ত্রী রীনা আক্তার শিল্পির প্রবাস ভ্রমণের সুযোগও হয় দুইবার। দুই প্রবাস ভ্রমণে শহিদ উল্ল্যাহ-শিল্পির কোল আলো করে দুই কন্যা সন্তান।
শহিদ উল্ল্যাহ-শিল্পির দাম্পত্য জীবনে বিপত্তি বাঁধে শিল্পির আশ্চর্যজনক আচরনে ২০১৬ সালে। সন্দেহ জনক হলে দেশে এসে জানতে পারে প্রবাস জীবনে উপার্জিত টাকায় ক্রয় করা সম্পত্তির অর্ধেক স্ত্রী শিল্পি আর অর্ধেক শহিদ উল্ল্যাহর নামে।
রীনা আক্তার শিল্পির সন্দেহজনক আচরণ, সকাল সন্ধায় আত্মীয়র বাড়িতে যাওয়ার নামে যেতো দ্বিতীয় স্বামীর কাছে।
হঠাৎ সম্পত্তির দলিল খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো ঢাকা ডেমরার ডগাইর ভুট্টোরোড এলাকার মৃত হায়দার আলীর ছেলে রাসেলের সাথে ২০১৬ সালে কোর্ট ম্যারিজের মাধ্যমে বিয়ে হয় শিল্পির।
বিষয়টি নিয়ে বার বার স্থানীয় গ্রাম্য আদালতে সমাধানের জন্য ডাকা হলেও উপস্থিত হয়নি ওই নারী বা তার পরিবারের কেউ। উল্টো সাত বছর একসাথে দুই স্বামীর সংসার করার পর গেলো কয়েকদিন আগে ডিভোর্সের কাগজ পাঠান শিল্পি।
এসব বিষয়ে ওই নারীর স্বজন তাজুল ইসলাম, আবুল হোসেন, মো. জাকির হোসেন, হেলাল উদ্দিন ও মো. রবিউল হাসানকেও অভিযুক্ত করেন শহিদ উল্ল্যাহ।
তবে রীনা আক্তার শিল্পির বড় বোনের স্বামী আবুল হোসেনের কন্ঠে অন্য কথা। তিনি বলছেন, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে বিবাহ বিচ্ছেদ করে শহিদ উল্ল্যাহর সাথে আবারও বিয়ে দেওয়া হয়। তখন মেনে নিলেও শহিদ উল্ল্যাহ এখন মিথ্যা একটি কথা তুলছে শিল্পির নামে।
এ বিষয়ে বার বার শিল্পী’র সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।