চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মানুরী ইসলামীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানান অনিয়মে জর্জরিত হয়ে পড়ছে। উন্নয়নকাজের আড়ালে এসব অনিয়মের নিয়ন্ত্রণ কর্তা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমিনুল হক। তার সাথে রয়েছেন দুই শিক্ষক ও অবৈধ এক অভিভাবক সদস্য। এসব অনিয়ম নিয়ে শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে রয়েছে দুই গ্রুপ। একে অপরকে কোণঠাসা করতে চলছে নানান ষড়যন্ত্র। সম্প্রতি মাদ্রাসার বিভিন্ন অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দ্বিতীয়বারের মতো মাদ্রাসায় অফিস কাম কম্পিউটার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। তারআগে এই পদসহ দুইটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ওইসময় অনিয়মের প্রশ্ন উঠে। অফিস কাম কম্পিউটার পদটি স্থগিত করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় গত ২১ জানুয়ারী। এবারও পদটি নিয়ে এলাকায় ঘুষ বাণিজ্যের নানান গুঞ্জন উঠেছে। একাধারে তিন থেকে চারজনের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে নিয়োগ দেয়ার আশ্বস্ত করেন চক্রটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দায়িত্ব অবহেলার কারণে অধ্যক্ষ ২০২১ সালে জুনিয়র দাখিল পরীক্ষার্থদের ফরম পূরণ করেনি। পরের বছর বোর্ডে অতিরিক্ত ফি দিয়ে বিষয়টি সুরাহ করেন। কমিটি গঠনেও রয়েছে অনিয়ম। নিয়ম-নীতি বিধি তোয়াক্কা না করে নিজের পছন্দ মত লোক নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে অভিভাবক সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন মিজি। তাকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শাকিলের অভিভাবক দেখানো হয়েছে। মুলত শাকিলের অভিভাবক মুন্নি বেগম।
সরজমিনে গিয়ে কথা হয় কয়েকজনের সাথে। তাদের মধ্যে অফিস কাম কম্পিউটার পদ প্রার্থী এক নারীর স্বামী ইকবাল মোল্লা। ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। তবে এলাকায় কথিত রয়েছে তিনি ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে দর কষাকষি করে পাকাপোক্ত আবস্থানে রয়েছেন।
মুঠোফোনে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাসারের সাথে। তিনি জানান, প্রথমবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সময় তিন লাখ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তার টাকা ফেরত পাননি। যার কাছে দিয়েছেন তিনি মারা গেছেন।
জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ আমিনুল হক বলেন, মাদ্রাসার দায়িত্ব নেয়ার পর অনেক উন্নয়ন কাজ করেছি। প্রতিহিংসার বশত অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র। নিয়োগ বাণিজের প্রসঙ্গে বলেন, মাদ্রাসার কেউ নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত নন। অভিভাবক সদস্য দেলোয়ার হোসেন মিজির প্রসঙ্গে বলেন, তাকে শিগগির দাতা সদস্য হিসেবে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। (দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার)