চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শিশু নাবিল রহমান ইমনকে (৬) অপহরণ ও হত্যা মামলায় পলাতক আসামী শাহজালাল হোসেন সোহাগকে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালত।
সোমবার দুপুরে এই রায় প্রদান করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী।
২০১৩ সালের অক্টোবরে নিখোঁজের চারদিন পর ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা বাজারের একটি আবর্জনার স্তূপে নাবিল রহমান ইমনের (৬) লাশ পাওয়া যায়।
নাবিল চান্দ্রা শিশু-কিশোর একাডেমির প্লে গ্রুপের শিক্ষার্থী ছিল। সে স্থানীয় মিজানুর রহমান ও রাশিদা বেগমের ছেলে। মৃতুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা বাজার এলাকার খাড়কাদিয়া গ্রামের শাহজাহানের ছেলে শাহজালাল হোসেন সোহাগ (৩৬)। ঘটনার পর নাবিলের বাবা মিজানুর রহমান ফরিদগঞ্জ থানায় অপহরণ, মুক্তিপণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুদ্দিন বাবু জানান, দশ বছর পর পলাতক আসামী শাহজালাল হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে আদালত তিনটি রায় প্রদান করেন। মামলায় নয়জনের স্বাক্ষী নেয়া হয়। একটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, আরেকটি ধারায় মৃত্যুদন্ড ও অপর ধারায় সাত মাসের সশ্রম কারাদণ্ডসহ পৃথকভাবে অর্থদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।
মামলা বিবরণী ও পুলিশের চার্জশিটে বলা হয়েছে, চান্দ্রা বাজারে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ময়লার স্তূপে একটি বস্তাবন্দি লাশ দেখে লোকজনকে জানান। এরপর লোকজন এসে পলিথিনের একটি স্বচ্ছ বস্তায় মোড়া স্কুল ড্রেস পরা ইমনের লাশ সনাক্ত করে। এরআগে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে অপহরণ করার পর দুর্বৃত্তরা মোবাইল ফোনে নাবিলের মায়ের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে নাবিলকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় অপহরণকারীরা।