কচুয়া সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে ছেলের হামলায় বাবা- মা সহ গুরুতর আহত হয়েছেন পাঁচজন।
সোমবার সকালে উপজেলার কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের উজানী মসজিদ বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মসজিদ বাড়ির হাজী ফজলুল হকের ছেলে শামছুল হক ও ওবায়েদুল হকের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সোমবার সকালে শামছুল হকের বাড়ির উপর দিয়ে বেপরোয়া ভাবে লোকজন চলাচল করার সময় শামছুল হকের বাবা ফজলুল হক বাধা দেয়।
এ সময় ওবায়েদুল হক তার দলবল নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তার বাবা ফজলুল হক, মা তাজিয়া বেগম, ভাই নজরুল ইসলাম, শামছুল হকের স্ত্রী সালেয়া বেগম ও তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আলী হোসেন সম্রাটকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে রক্তাক্ত আহত করেন। তাদের ডাক চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন এগিয়ে আসলে ওবায়েদুল হক গংরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। তাদের হামলায় বাড়ির লোকজন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার শামছুল হকের স্ত্রী সালেয়া বেগম, নজরুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা আলী সম্রাট হোসেন উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা হাসপাতালে প্রেরন করেন।
বাকী দুইজন বাবা হাজী ফজলুল হক, মা তাজিয়া বেগম কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ হামলার ঘটনায় আহত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের
প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় ওবায়েদুল হকের বক্তব্য জানার জন্য তার এলাকায় গেলে তাকে না পেয়ে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন দিলে মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মেহেদী হাসান বলেন- হাজী ফজলুল হকের ছেলে
শামছুল হক ও ওবায়েদুল হকের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
গতকাল সোমবার সকালে তাদের মধ্যে পূর্বের বিরোধের জের ধরে এক পর্যায়ে মারামারির সৃষ্টি হয়। এতে ফজলুল হক ও তার স্ত্রী তাজিয়া বেগমসহ অনেকে আহত হন। শামছুল হক ও ওবায়েদুল হকের জমিজমা নিয়ে স্থানীয় শালিসদের মাধ্যমে কয়েকবার সমাধানের জন্য বসলেও শামছুল হক সমাধান চাইলে ওবায়েদুল হক সমাধানে আসেননি।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ইব্রাহিম খলিল জানান, মারামারি ঘটনাটি শুনেছি, এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত
সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।