লাঠির উপর ভর করে ৯০ বছর পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী হয়ে গেলেন ফারুক হোসেন।
১৯৩৮ সালে ভর্তি হয়ে পাঁচ বছর পড়াশোনা করেন তিনি। বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম সারিতে বসলেন তিনি। মঞ্চে প্রধান অতিথির আসনে মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর অবসরপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি। প্রধান অতিথি বক্তৃতা শেষে ওই বৃদ্ধ প্রাক্তন শিক্ষার্থীর কাছে স্মৃতিচারণ শুনতে চেয়েছেন।
ফারুক হোসেন বললেন, এই মিলন মেলায় যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে প্রাক্তন ছাত্র। সবাইকে দেখে মনটা আনন্দিত।
শুক্রবার সকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার কেশরাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনাড়ম্বর আয়োজনে উদযাপিত হয় শতবর্ষের মিলন মেলা। ১৯১৮ সালে স্থানীয় বাসিন্দা রত্ত বানুর দেনমোহরের টাকায় বিদ্যালয়টি গড়ে উঠে। সেই থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের নানান প্রান্তে কর্মজীবন বেছে নিয়েছেন।
মিলন মেলার খবর পেয়ে ছুটে আসেন কৃষিবিদ অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করেন। নিজ গ্রামের স্কুলের শতবর্ষ ফূর্তি অনুষ্ঠানে এসে একজন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারকে দেখে তিনি আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিদ্যালয়ের আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাজমা বেগম। তিনি এই কেশরাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দশ বছর শিক্ষকতা করেছেন। ২০১৮ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।
বাল্যকালের এমন স্মৃতিচারণের অনুভূতি ভাগ করে নেয় পাঁচশতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী।
মিলন মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন মেজর অবসরপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি।
তিনি বক্তব্যে এমন আয়োজনে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রত্যেককে মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিদিন প্রতিজন যদি একজন মানুষকে যেকোন কাজে সহযোগিতা করে, তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে।
মিলন মেলায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তৃতা করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জামাল নাসের, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ ড. আবু জাফর খান, উপজেলা চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান শেফালী, পৌর মেয়র আবদুল লতিফ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জেডএম আনোয়ার হোসেন, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রধান শিক্ষক ফাতেমা বেগম আরো অনেকেই।