জনবল সংকটে হিমশিম খাচ্ছে চাঁদপুরের স্বাস্থ্য সেবা। জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীসহ প্রায় ৪৫৩ জনের পদ শূণ্য। জনবল নিয়োগ হলে বাড়বে স্বাস্থ্য সেবার মান। সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে চাহিদা ও জনবল শূন্যের তালিকা দেয়া হয়। তবে বেশিরভাগ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
গেল বছর চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চার বেডের আইসিও ও শিশুদের জন্য আট বেডের স্পেশাল কেয়ার ফর নিউব্রন ইউনিট চালু হয়। তবে এই দুইটি ইউনিটের জন্য চিকিৎসক, নার্সসহ কোন জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জোড়াতালি দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা করে আসছে।
এভাবে জেলার ৮ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী- কর্মচারীর চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসক ৬৭ জন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী ঘাটতি ৩৮৬জনসহ মোট ৪৫৩ জন।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর অভিভাবক খালেকুজ্জামান শামীম। তিনি জানান, তাদের গন্তব্যপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন চিকিৎসক নেই। তাই গ্রাম থেকে শহরে আসতে হয়।
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে শিশু স্পেশাল কেয়ার ফর নিউব্রন ইউনিটের দায়িত্ব থাকা নার্স (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
জনবল সংকট ও অতিরিক্ত রোগীর চাপে স্বাস্থ্য সেবায় হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান । তিনি আরো জানান, আইসিও ও শিশুদের নতুন ওয়ার্ডে কোন জনবল নিয়োগ হয়নি। অন্য ওয়ার্ডের জনবল দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা।
মাঠ পর্যায়ে কর্মী সংকট বেশি। তাই স্বাস্থ্যসেবায় বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে বলে জানান সিভিল সার্জন সাহাদাৎ হোসেন। স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। শূণ্য পদ গুলো পূরণ হলে বাড়বে স্বাস্থ্য সেবার মান।
জেলার প্রায় ২৭ লাখ মানুষ, পাশের জেলা শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের ভরসাস্থল চাঁদপুরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো। দ্রুত জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া হলে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি লাঘব হবে বেকারত্বের।
Ni/N