গত ২৮ জুন সাভারের দক্ষিণ সবুজবাগ এলাকায় নিজ বাড়িতেই খুন হন হাজেরা বেগম। এ ঘটনায় ৬ ও ৭ ডিসেম্বর সাভার থেকে পারভীন ও শহীদুলকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পারভীন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেছে পুলিশ। তবে লন্ডনপ্রবাসী আইয়ুব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি গ্রেফতার হওয়া দুজন।
পুলিশ বলছে, পারভীন সেলাইয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অসুস্থ স্বামী ও সন্তান নিয়ে সাভারের ডোগরমোড়া এলাকায় থাকেন। সাভারে মুঠোফোন মেরামতের দোকান রয়েছেন শহীদুলের। মুঠোফোন মেরামত করতে গিয়ে শহীদুলের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহহিল কাফী বলেন, খুনের ঘটনায় সরাসরি জড়িত পারভীন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি যে কারণে খুনের কথা বলেছেন, সেটি খুবই তুচ্ছ। তবে হাজেরাকে পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয়েছে। টাকার জন্য তিনি খুন করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।
তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, হাজেরা খাতুনকে হত্যায় পারভীন একাই অংশ নিয়েছেন—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ঘটনার পর হাজেরা খাতুনের মুঠোফোন নিয়ে যান পারভীন। সেই মুঠোফোন তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজে বোরকা পরিহিত অবস্থায় দেখা যাওয়া নারী পারভীন বলে তাঁর স্বামী নিশ্চিত করেছেন।
হাজেরা খাতুন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে চাকরি করতেন। ২০১১ সালে তিনি অবসরে যান। স্বামী বেঁচে নেই। তাঁর দুই মেয়ে স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে অন্যত্র থাকেন। ওই বাড়ির তিনতলায় তিনি একাই থাকতেন। হাজেরা খাতুন খুনের ঘটনায় তাঁর মেয়ে তানিয়া আক্তার সাভার থানায় অজ্ঞাত এক নারীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
হাজেরাকে হত্যার যে কারণ পারভীন বলেছেন, এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তানিয়া আক্তার। তিনি বলেন, বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে পারভীন বাড়িতে ঢুকে তাঁর মাকে খুন করেছেন এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই তাঁর। কারণ, এ বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন। তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে পারভীন যে কথা বলছেন, সেটি তাঁদের বিশ্বাস হচ্ছে না। এটি বানানো গল্প বলেই তাঁদের মনে হয়েছে। যে ভাড়াটিয়া নারীকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, ওই নারীর পরিবার স্বেচ্ছায় বাসা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন।