আজ ৪ ডিসেম্বর মতলব মুক্ত দিবস। এ উপলক্ষে সাহিত্য পরিষদ, মতলব উত্তর কর্তৃক প্রদত্ত মতলব মুক্ত দিবস সম্মাননা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বছর মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন বিভাগে ৬ জন গুণী পাচ্ছেন সাহিত্য পরিষদ মতলব উত্তর কর্তৃক প্রদত্ত মতলব মুক্ত দিবস সম্মাননা পুরস্কার।
পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেনঃ সাহিত্যে- সরকার আবদুল মান্নান, শিক্ষায়- মোঃ আব্বাস উদ্দিন, মানবাধিকার রক্ষায়- এ্যাডভোকেট মোঃ জসীম উদ্দিন, সমাজ সেবায়- সরকার মোঃ আলাউদ্দিন, ক্রীড়া সংগঠক- মোঃ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, কৃষি উদ্দোক্তা- সামিউল বাসির বিন হোসেন।
দেশবরেণ্য কথাসাহিত্যিক মতলব উত্তরের কৃতি সন্তান সিলেট এম সি কলেজ এর অধ্যাপক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির কর্মকর্তা ড. সরকার আবদুল মান্নান ড. সরকার আবদুল মান্নান, প্রধান অতিথি হিসেবে ও চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযুদ্ধা মিঞা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান আলোচক এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক রফিকুর রশীদ, খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও টিভি উপস্থাপক মনি হায়দার, ছেংগারচর সরকারী ডিগ্রি কলেজ এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ইয়াছিন ঢালী, গজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল্লাহ প্রধান ও দৈনিক প্রিয় চাঁদপুর এর সম্পাদক ও প্রকাশক বোরহান উদ্দিন ডালিম বিশেষ অতিথি হিসেবে ও মতলব উত্তর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে আজ ৪ঠা ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় মতলব উত্তর প্রেসক্লাব হলরুমে মতলব মুক্ত দিবস উদযাপনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ পুরস্কার তুলে দেবেন।
সাহিত্য পরিষদ মতলব উত্তর, স্বাধীনতার সূবর্ন জয়ন্তী ২০২১ সাল থেকে মতলব উত্তর উপজেলার গুনীজনদের মাঝে ‘মতলব মুক্ত দিবস সম্মাননা পুরস্কার’ নিয়মিত প্রদান করে আসছে। উক্ত অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস লালনকারী, সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রেমী এবং সাহিত্য পরিষদ মতলব উত্তর এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকতে বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানান সাহিত্য পরিষদ মতলব উত্তর এর প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ শিশু সাহিত্যিক ফোরাম এর সভাপতি-খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী,চেয়ারম্যান মোঃ আশিকুজ্জামান, মহাপরিচালক নুর মোহাম্মদ খান।
উল্লেখ্য ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানী বাহিনী মতলবের মাটি থেকে বিতাড়িত হয় এবং মতলব হানাদার মুক্ত হয়ে স্বাধীন হয়। ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল ঢাকা থেকে সড়ক পথে পাক বাহিনী মতলবে আসে এবং থানা দখল তাদের ক্যাম্প স্থাপন করে। তারা মতলবের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পাক বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোশর রাজাকারদের সহায়তায় এনায়েতনগর গ্রামে প্রায় ৫ হাজার ঘড়-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয় এবং বহু নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নেয়। তখন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কবির আহমেদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা মতলবের খিদিরপুর, বহরী, বাগান বাড়ি, মোহনপুর ও এনায়েতনগর এলাকায় ৫টি ঘাটি তৈরি করে পাক হানাদার বাহিনীর মোকাবেলা করে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা দখলদার পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে লালার হাট,বোয়ালমারি,বরদিয়া এবং নাগদাসহ আরো কয়েকটি স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধা এবং সর্বস্তরের জনগনের প্রবল প্রতিরোধের মুখে অবশেষে ৪ঠা ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী নদী পথে মতলব ছাড়তে বাধ্য হয়।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মতলবে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।