POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

১৯ বছর পর ১০ একর সম্পত্তি ফিরে পেলেন ফাতেমা বেগম

শান্তু ধর, কচুয়া | প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২২ | সময়: ৯:০৬ অপরাহ্ণ

চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের পর কচুয়ায় প্রায় ১৯ বছর পর ১০ একর ৪৩ শতাংশ সম্পত্তি ফিরে পেলো নিরীহ ফাতেমা বেগম এর পরিবার।

সোমবার চাঁদপুরের বিজ্ঞ যুগ্ন জেলা জজ ২য় আদালত অরুন পাল এর নিদের্শনা উপজেলার সহদেবপুর গ্রামের মাষ্টার বাড়িতে অবৈধ বাড়িঘর দখলীয়,নাল ও ভিটা সম্পত্তি উচ্ছেদ করে ভূমির মালিককে বুঝিয়ে দেয়া হয়। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন, কচুয়া সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন।

বাদী ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম জানান, দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর যাবত আমরা আমাদের সম্পত্তি বুঝে পাইনি। আমার স্বামী এই সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার জন্য আদালত পাড়া ও বিভিন্ন স্থানে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের ১৯ বছর পর হলেও জেলা জজ আদালত ন্যায় বিচারের রায় দিয়েছেন। আদালতের রায়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের সম্পত্তি ফিরে পেয়েছি। আজকে আদালত লাল নিশান টানিয়ে আমাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমরা আদালতের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম এর ছেলে মেহেদী হাসান ইমন জানান, চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে ২০০৪ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলা দীর্ঘ শুনানি পর্যালোচনা শেষে প্রায় ১৯ বছর পর বিজ্ঞ আদালত আমাদের পক্ষে রায় ঘোষনা করেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। পাশাপশি স্থায়ী ভাবে ভোগ দখলে যাতে যেতে পারি প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

বিবাদী পক্ষ মো. হুমায়ুন কবির জানান, কোনো লিগ্যাল নোটিশ ছাড়াই আমাদের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, অনেকদিন ধরে আদালতে মামলা চলেছে, আজকে আদালতের লোকজন ভূমি সার্ভে করে বাদীর সম্পত্তি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ভূমি সার্ভে শেষ হলে আমরা বুঝতে পারবো আমাদের সম্পত্তি ঠিক আছে কিনা। যদি ঠিক না থাকে, তাহলে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

জেলা যুগ্ম জজ আদালতের নায়েব নাজির গাফফার খান নাদিম জানান, কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর গ্রামের মাস্টার বাড়ির ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম গং বাদী হয়ে ২০০৪ সালে চাঁদপুর জেলা যুগ্ম জজ আদালতে একটি দেওয়ানি বন্টন মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২২/২০০৪। দীর্ঘদিন মামলা চলে আসার পর ২০২১ সালের জুন মাসে বিজ্ঞ জেলা যুগ্ম জজ মামলাটির রায় ঘোষণা ও ডিগ্রি জারি করেন। এতে বাদী ফাতেমা বেগম গংরা ১০ একর ৪৩ শতাংশ ৮০ পয়েন্টে সম্পত্তি ফিরে পায়। আদালতের রায় অনুযায়ী আজকে আমরা ঘটনাস্থলে এসে ভূমি সার্ভে করে লাল নিশান টানিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছি। এছাড়া বাদীর প্রাপ্ত সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে এবং আদালতের রায় কার্যকর করতে ব্যবস্থা নিয়েছি।

কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, আমরা আদালতের রায় বাস্তবায়ন করতে এসেছি, বিশেষ করে কোনো ধরেনর আইনশৃঙ্খলা অবনতি হচ্ছে কিনা তার দিকে নজর রাখছি।

এসময় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন,ইউপি সদস্য হান্নান মিয়া, পুলিশ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন