এমপিও ভুক্তির মাত্র ৪৯ মাসের মাথায় মৃত্যু হয় শিক্ষক মানিক মিয়াজীর। এমপিও ভুক্তির আগে প্রায় ১০ বছর সামান্য বেতনে চাকুরি করেছিলেন তিনি। যা অনেকটা বিনাবেতনের মতই। বলছিলাম
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর হাজী এরশাদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মানিক মিয়াজীর কথা। তিনি গত ২৬ মে ২০২২খ্রী স্ট্রোক করে ইন্তেকাল করেন। মাত্র ৪৯ মাস হলো ওই বিদ্যালয়ে এমপিও অন্ত: ভুক্ত শিক্ষক হয়েছিলেন তিনি। অথচ এই এমপিও ভুক্ত হতে প্রায় ১০ বছর যাবত শিক্ষতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন মানিক । তাও এক প্রকার বিনা বেতনেই এপেশায় নিজেকে আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন।
তরুন শিক্ষকের অকাল মৃত্যুতে শুন্য হয়ে পড়ে তার পরিবারে হাল ধরার মানুষ। স্ত্রী দুই শিশু কন্যারকে এতিম করেই চিরনিদ্রায় সায়িত শিক্ষক মানিক মিয়াজী। তার বড় মেয়ে মাইশা ইসলাম অষ্টম শ্রেণী ও ছোট মেয়ে মেহজাবিন দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী। বাবার মৃত্যুর পর এতিম মেয়েদের লেখা পড়ার ভার কিছুটা সহকর্মীরাই বহন করছে। হয়ত তা বেশিদিন গড়াবে না। তাই তাদের চোখে মুখে আজ অন্ধকারে আচ্যাদিত।
মানিক মিয়াজীর জন্ম হাজীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে। দরিদ্র পিতা মরহুম হারুন রশিদ কৃষি / জেলের কাজ করেই তাকে লেখাপড়া করান। ভাই বোনদের মধ্যে মানিক মিয়াজী এক মাত্র লেখাপড়া জানা ব্যক্তি। অন্য ভাই বোনরা তেমন লেখাপড়া করতে না পারায় দিনমজুরের কাজ করেই সংসার চালাচ্ছেন। বাবা হারুন কোনমতে ছেলে মানিককে লেখা পড়ার করান। এলাকার বিত্তবাদের সহয়তায়ই সে লেখাপাড়া করেন। তাদের পরিবারে একমাত্র লেখাপড়া জানা মানিক মিয়াজী ছিলেন সকলের প্রিয়। সুখে দুখে তিনিই পরিবারের অন্যসকলের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর মৃত্যুর পর ওই পরিবারটি একে বারেই নি: স্ব হয়ে পড়েছে।
সহকর্মী জগন্নাথপুর হাজী এরশাদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মোরতেজা কামাল বলেন, মানিক ছিলেন হিসাবে দক্ষ। প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগটা তার উপরেই নির্ভর ছিল। তিনি ছিলেন সৎ ও নিষ্ঠাবান। অসহায় এই শিক্ষক পরিবারের প্রতি বিত্তবাদের এগিয়ে আসা উচিৎ।