চুল হলো পুরুষ বা নারী সবারই সৌন্দের্যের প্রতীক। বংশগত কারণে বা পুষ্টির অভাবে চুল পড়ে যেতে পারে। তবে জানেন কি আপনার দোষেও চুল পড়তে পারে। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক সেসব কারণ-
খুব জোর দিয়ে চুলের পানি মোছেন
আপনি কি তোয়ালে দিয়ে খুব জোরে ঘসে ঘসে চুল মোছেন? যদি করে থাকেন, তবে এখনই তা বন্ধ করুন।
ভেজা চুলের গোড়া বেশ নরম থাকে। সহজেই উঠে আসে বা ভেঙে যায়। তার ওপর তোয়ালে দিয়ে জোরে জোরে মোছার কারণে চুল পড়ে যায় বা ভেঙে যায়।
ভেজা চুল আঁচড়ান
আগেই বলা হয়েছে ভেজা চুলের গোড়া নরম থাকে। তাই ভেজা চুল আঁচড়ালেই চুল উঠে আসে বা ভেঙে যায়। সব সময় চুল শুকানোর পর চুল আঁচড়াতে হয়।
ব্লো-ড্রায়ার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহার
প্রচুর হিট চুল নষ্ট করে দেয়। ভেজা চুলে যখন আয়রন ব্যবহার করা হয় তখন প্রচুর হিটে আপনার চুল সিদ্ধ করে ফেলে। এতে চুল ভেঙে যায়। তাই হালকা শুকিয়ে তারপর ব্লো-ড্রায়ার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহার করবেন।
চুলের প্রসাধনী ব্যবহার
বাজারের কিছু প্রসাধনী দীর্ঘস্থায়ী চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখার দাবি করে। তবে এটির কিছু খারাপ দিকও আছে। আস্তে আস্তে চুল পড়ে যায়। চুল পড়া কমাতে এর ব্যবহার কমিয়ে ফেলুন।
সঠিকভাবে চুল আঁচড়ানো
প্রতিবার প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট ধরে চুল আঁচড়াবেন। এটা না করলে চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল সঠিকভাবে হবে না। চুলের গোড়া মজবুত হবে না।
চুলে ঘন ঘন রং বা ব্লিচিং করা
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুলে রং, ব্লিচিং, চুল স্ট্রেইট করা বা যেকোনো ক্যামিক্যাল ব্যবহার অল্প পরিমাণে করতে হবে। বেশি পরিমাণে করলে আস্তে আস্তে চুল রুক্ষ, শুষ্ক, ভঙ্গুর করে ফেলে। ফলে চুল পড়ে যায়।
খুব টাইট করে চুল বাঁধা
খুব টাইট করে চুল বাঁধলে বা পনিটেইল করলে চুল পড়ে যায়। চুলের এক্সটেনশন হলেও পড়ে। আপনি যখন নিয়মিত চুল টাইট করে বাাঁধেন এবং এ অবস্থায় প্রায় অনেকটা সময় পার করেন তখন চুল গোড়া থেকে আস্তে আস্তে উঠে আসে।
অনেকটা সময় রোদে থাকা
সরাসরি রোদে অনেকটা সময় চুল খোলা থাকলে চুল নষ্ট হয়ে যায়। রোদের কারণে চুল লালচে হয়ে রুক্ষ, শুষ্ক এবং দুর্বল হয়ে যায়। ফলে চুল পড়ে যায়। সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি (ইউ ভি) রশ্মি থেকে মাথার ত্বকের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। এ জন্য জিংক অক্সাইড সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।
শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার ব্যবহার
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত। যদিও কন্ডিশনার আপনার নষ্ট হয়ে যাওয়া চুল ঠিক করে না, তবে উজ্জ্বলতা বাড়ায়, সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি (ইউ ভি) রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয় এবং চুল মজবুত করে।
ওপরের কারণগুলো ছাড়াও নিজের খাদ্যতালিকার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। চুল খাবার থেকে সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে কি না সেদিকে খেয়াল করুন।
H/N