বাদ মানছে না অশ্রু। পরিবারের আদরের সন্তান সুমাইয়াকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ এখন স্বজনেরা।
মা গোসল করতে যাই বলেই বের হয় সুমাইয়া। এই যাওয়াটাই যে সুমাইয়ার না ফেরার কারণ হবে তা জানতো কে? বের হওয়ার তিন ঘন্টা পর বাড়ি ফেরেছে ঠিকই কিন্তু নিথরদেহ।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের শ্বাসরুদ্ধকর প্রায় দেড় ঘন্টা অভিযানের পর শিশু সুমাইয়াকে উদ্ধার করা হয়।
শিশু সুমাইয়ার বাবার বাড়ি সিলেট মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল বারাউড়া নোয়া বাড়ি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে সুমাইয়া। রোববার দুপুরে নানার বাড়ির তানজিনা, জান্নাত ও সিয়ামের সাথে সুবিদপুর উত্তর-পশ্চিম পাড়ার ডোবায় শাপলা তুলতে যায়। এরপর মজুমদার বাড়ির সামনের ড্রেজারে খোদাই করা গর্তে তারা চারজন গোসল করতে নামে। হঠাৎ করেই সুমাইয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না।
সুমাইয়ার সাথে থাকা তানজিনা জানান, পানিতে সাঁতার কাটছে তারা। হঠাৎ সুমাইয়াকে দেখতে না পেয়ে তার মাকে খবর দেয়।
নিখোঁজের পর স্থানীয়রা তাকে খোঁজতে পানিতে নামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রাশেদুল আলম ও তার টিম। খবর দেওয়া হয় চাঁদপুর ডুবুরি দলকে।
চাঁদপুর ডুবুরি দলের ডুবুরি মো. রাজিব হোসেন প্রায় আধঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে উদ্ধার করে সুমাইয়ার মৃতদেহ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল আজিজ।
তিন ভাই-বোনের মধ্যে সুমাইয়া মেঝো। বাবা রুমানের সাথে মা পাখি বেগমের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় কয়েক বছর আগে। এরপর মা আবার বিয়ে করেন সিলেটে।