সম্প্রতি খাদ্যনিরাপত্তার কথাটা বিশ্বব্যাপী সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। বিষয়টিতে ঢোকার আগে চকিত রেখায় এর পটভূমিটা দেখে নেওয়া যাক। কোভিড-১৯ আমাদের জীবনে তার মারাত্মক কামড়ের দাগ রেখে গেছে। এই অতিমারির আগে থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, জাতিগত সংঘাত ইত্যাদির কারণে পৃথিবীর নানা স্থানে ক্ষুধার মাত্রা তীব্র হয়ে উঠছিল। অতিমারি যুগপৎ মানুষের আয় কমিয়ে দিল এবং খাদ্যের সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করল। পরিস্থিতি হয়ে উঠল তীব্রতর।
গ্লোবাল নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে আনুমানিক ১৬ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়েছে। এর ঠিক আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। শুধু তা-ই নয়, ২০২১ সালে প্রায় ২৩ কোটি মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার কারণে ‘চাপগ্রস্ত’ হয়। ২০২০ সালের চেয়ে এমন মানুষের পরিমাণও ৭ শতাংশ বেশি।
বিশ্বব্যাংকের একটা সমীক্ষা বলছে, ৮৩টি দেশে কোভিড-১৯ অতিমারির প্রথম দুই বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মানুষ খাদ্যাভাবে পড়েছে, অর্থাৎ তাদের খাওয়া কমিয়ে দিতে হয়েছে। আরেকটি সূচকে দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সালের সারাটা বছর প্রায় ২৩৭ কোটি মানুষের নিয়মিত খাবারের জোগান ছিল না। তারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তা এবং পুষ্টি অবস্থার প্রতিবেদন ২০২১ অনুযায়ী, ২০২০ সালে পৃথিবীর ৭২ থেকে ৮১ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত ছিল। ২০২১ সালে যে ১৬ কোটি মানুষ সংকটাপন্ন ছিল, তাদের মধ্যে প্রায় ১৩ কোটিই বিভিন্ন যুদ্ধ-সংঘাত বা সহিংসতার মধ্য দিয়ে গেছে।
এ সংকটাপন্ন চিত্রে বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো চেপে বসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকির কথা বিশ্লেষকেরা বলছেন। যুদ্ধের কারণে শস্যের স্বল্প সরবরাহ, জ্বালানি ও সারের মাত্রাতিরিক্ত দাম এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে খাবারের দাম সামনের সময়টাতে বাড়বে, কোনো কোনো জায়গায় খাবারের অভাব দেখা দেবে এবং লাখ লাখ লোককে না খেয়ে থাকতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: প্রথম আলো
H/N