২০০৯ সালে মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাস্টার বাজারে প্রতিষ্ঠিত হয় মাস্টার বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড। নিজেদের পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তা করে মেয়াদ কালীন কেউ ২ লাখ আবার কেউ জমা রাখেন ৩ লাখ টাকা। একটু লাভের আশায় অনেকেই করেন ডিপিএস। সমিতির একযুগ পার হতে না হতেই শুরু হয়েছে তালবাহানা। নেওয়া হচ্ছে না ডিপিএস এর টাকা, মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ফেরত দেওয়া হচ্ছে না জমা রাখা গ্রাহকের টাকা। সমিতিতে জমা থাকা প্রায় ৮৫% টাকা নিয়েই পালাতক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম মিজি।
অমৃত চন্দ্র সূত্রধর, পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। করোনা কালীন সময়ে সংসার চালাতে যখন হিমশিম তখনও কিছু লাভের আশার দিয়ে গেছেন মাস্টার বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডে করা ১০ বছর মেয়াদী ডিপিএসের টাকা। ডিপিএসএর মেয়াদ আট বছর হওয়ার পরই তার কাছ থেকে আর নেয়া হচ্ছে না ডিপিএসএর টাকা।
সিরাজ বকাউল, পেশায় একজন কৃষক। সরকারের দেয়া বয়স্ক ভাতার টাকা তুলে জমা রাখেন এই সমিতিতে। টাকা জন্য গেলেই দিবো-দিচ্ছি বলে দেয়া হচ্ছে না টাকা।
আনজুমা বেগম, মাস্টার বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের একজন সদস্য ছিলেন। তার মাধ্যমেই ডিপিএস করেছে ১০ থেকে ১৫ জন গ্রাহক। তিনি নিজেও ১০ বছর মেয়াদী ডিপিএস করেন এখানে। কিন্তু টাকার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন এই আনজুমা বেগম। এদের মতো সাজেদা, রতন চন্দ্র দাস, নাসরিন, ওসমান তফদারসহ রয়েছেন শত শত গ্রাহক। তারা এখন দিশেহারা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের তিলে তিলে সঞ্চয় করা টাকা ফেরত চান সবাই।
কথা হয় মাস্টার বাজার বহুমুখী সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠা সদস্য লক্ষ্মণ সূত্রধরের সাথে। তিনি জানান, সমিতিতে গ্রাহকের জমানো ৭২ লাখ টাকা নিয়ে এলাকা ছেড়েছেন সভাপতি আব্দুর রহিম মিজি। গ্রাহকের কথা জানতে চাইলে লক্ষ্মণ সূত্রধর সমিতির সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস বলতে পারেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
পপুলার বিডিনিউজের সাথে মুঠোফোনে কথা হয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র দাসের। তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪ নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, সমিতিতে ১৮জন সদস্য এর মধ্যে সভাপতি গ্রাহকদের ৮০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। তবে সমিতিটি চলমান রাখতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবী করেন তিনি।
সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম মিজি মতলব দক্ষিণ উপজেলার গোসাইপুর মিজি বাড়ির রুহুল আমিন মিজি ছেলে।, তিনি এই সমিতির আয় দিয়েই চালাতেন নিজের পরিবার। প্রায় সাত মাস আগে গ্রাহকদের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান তিনি।