শরীরের রক্ত বিক্রি করে হলেও তিন বোনের পড়াশোনা করানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া আবদুল্লাহ শরীরের রক্ত ঝরিয়ে ছাড়লেন পৃথিবীর মায়া। সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল তার প্রাণ। শুক্রবার সকালে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্র চাঁদপুর আল আমিন স্কুল এন্ড কলেজে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ওই সময় সাথে থাকা আরেক পরীক্ষার্থী ফাতেমা আলম ঘটনাস্থলে মারা যান।
তাদের স্বপ্ন ছিলো শিক্ষক হবার। সংসারের দুঃখ দূর হবে। একটা চাকরী খুবই প্রয়োজন ছিল। চাকরীর জন্য পরীক্ষা দেয়াই ভাগ্যে ঝুটেনি। চলে গেলো না ফেরার দেশে। দুইটি প্রাণ কেড়ে নিলো একটি সড়ক দুর্ঘটনা।
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে ঘোষের হাট এলাকায় ঘটে। শুক্রবার সকালে সিমেন্টবোঝাই পিকআপ ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার্থী ফাতেমা আলম (২৫) ও পরে হাসপাতালে নেয়ার পর পরীক্ষার্থী আবদুল্লাহর (২৭) মৃত্যু হয়।
মৃত্যু হওয়া পরীক্ষার্থী হাজীগঞ্জ উপজেলার মো. মাহবুব আলমের মেয়ে ফাতেমা আলম। তবে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত তার গ্রামের বা অভিভাবকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। অপর পরীক্ষার্থী ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়াপাড়া পাটোয়ারী বাড়ীর হোসেন পাটোয়ারীর একমাত্র পুত্র আবদুল্লাহ । এই ঘটনায় সিএনজি চালক পালিয়ে গেলেও যাত্রী আমেনা আক্তার ও তার বাবা ইয়াছিন আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুর রহমান পলাশ পপুলার বিডিনিউজকে মুঠোফোনে জানান, সিমেন্ট বোঝাই পিকাআপটি দ্রুত গতিতে এসে সিএনজির সাথে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়।
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আনিসুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় আহত আবদুল্লাহ হাসপাতালে আনার পর মারা যান। এছাড়া দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
চাঁদপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রশিদ পপুলার বিডিনিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে ফাতেমা আলমের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আবদুল্লাহ মারা যান। এদিকে সিএনজি ও পিকআপ চালক পালিয়ে যান বলে জানান ওসি। পপুলার বিডিনিউজ, চাঁদপুর