বিয়ে পাগল শামসুল হক পাটোয়ারী। একে একে তিন বিয়ে করেন। দুই বউ বিচ্ছেদ হয়। প্রথম স্ত্রীকে একবার তালাক দিলেও সমাজের মাতাব্বরদের প্রচেষ্টা ঘরে তুলতে বাধ্য হন। এখন আবার চতুর্থ বিয়ে করতে প্রথম স্ত্রীকে মৌখিকের পর উকিল নোটিশের মাধ্যমে তালাক দেন। তবে ৪৮ বছর বয়সী ফাতেমা বেগম এই তালাক মানতে নারাজ। স্বামীর ভিটা-বাড়ী ছাড়তে চান না। এক সন্তান ও তার পুত্রবধূসহ নাতিনকে নিয়ে কাটাতে চান জীবনের শেষ দিনগুলো।
হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বেলঘর দক্ষিণ পাটোয়ারী বাড়ীর বাসিন্দা শামসুল হক পাটোয়ারী। পুরো বেলঘর এলাকায় এই বিয়ে পাগল সামছুল হকের আচমকা কর্মকান্ডে বিভ্রত সমাজ ব্যবস্থা। তার এমন কর্মকান্ডের ইন্ধন ও কু-পরামর্শ দিয়ে স্বার্থ হাসিল করছেন গুটিকয়েক ব্যক্তিও।
তার প্রথম স্ত্রী হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের ফাতেমা বেগম (৪৮) , দ্বিতীয় স্ত্রী ছিল সিলেটের রোকেয়া বেগম (৪৫), তৃতীয় স্ত্রী ছিল বেলঘরের শামসুর নাহার (৩৫)। এবার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে চতুর্থ বিয়ে করার সুযোগ খুঁজছেন এই বিয়ে পাগল সামছুল হক।
স্বামীর সিদ্ধান্তকে মানতে নারাজ বলে পপুলার বিডিনিউজের কাঝে তুলে ধরেন সামছুল হকের প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম। জীবন-যৌবনের শেষ প্রান্তে এসে স্বামীর এমন সিদ্ধান্তকে মানবেই বা কি করে। বয়স যে এখন বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে। তার ছেলে ফরহাদ হোসেন দুবাই প্রবাসী (২৮)। তার সাথে বাকী জীবন থাকছেন চান তিনি।
ইউপি সদস্য ইউছুফ পাটোয়ারী বলেন, সামছুল হক পাটোয়ারীকে একাধিকবার বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সামাজিক ভাবে বৈঠকেরও ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন মিয়াজী বলেন, প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিল দশ বছর আগে। তখন সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে দ্বিতীয়বার বিয়ের ব্যবস্থা করানো হয়।
জানতে চাইলে বিয়ে পাগল সামছুল হক পাটোয়ারী বলেন, রমাজানে তালাক দিয়েছি। এখনো আমার ঘর ছাড়েনি। তাই উকিল নোটিশ করা হয়েছে। তাকে নিয়ে সংসার করা সম্ভব হবে না।
গেল রমজানে প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম অসুস্থ থাকায় ইফতারি তৈরী করেনি। তাতেই স্বামী-স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মৌখিক তালাক দেয় সামছুল হক। তারপর থেকে বিষয়টি নিয়ে পুরো সমাজে তোলপাড় চলছে। পপুলার বিডিনিউজ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।