POPULAR BD NEWS
Popular BD News Logo

চট্রগ্রামে হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যা মামলার রায় আজ

খালেকুজ্জামান শামীম | প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২২ | সময়: ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে হাজীগঞ্জের শিশু আরাফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে আজ ২৭ এপ্রিল  বৃহস্পতিবার।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হলে আদালত রায় ঘোষণার জন্য দিন ঠিক করেন। এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জসিম উদ্দিনের আদালতে এ মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন রায় ঘোষণা না করে  বৃহস্পতিবার নতুন করে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।
হত্যাকান্ডের শিকার আড়াই বছরের শিশু আরাফ হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুর উত্তর ইউনিয়নের তারালিয়া গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম ও ফারহানা বেগম দম্পত্তির একমাত্র সন্তান। আব্দুল কাউয়ুম একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকরি করার সুবাদে তিনি পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ২০২০ সালের ৬ জুন ওই বাসার পানির ট্যাংকি থেকে শিশু আরাফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের ৬ জুন বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগরে একটি ভবনের ছাদে পানির ট্যাংকে ফেলে হত্যা করা হয় দুই বছরের শিশু আরাফকে। ওই ঘটনায় করা হত্যা মামলায় আসামি করা হয় মিয়াখান নগরের বাসিন্দা মো. ফরিদ, ভাড়া বাসার দারোয়ান মো. হাসান ও হাসানের মা নাজমা বেগমকে। তারা শিশু আরাফের হত্যাকান্ডে জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এদিকে শিশু আরাফ হত্যায় ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে শিশুটির বাবা আব্দুল কাইয়ুম ও মা ফারহানা বেগম যুগান্তরকে   জানান, আমরা আদালতের কাছে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড  প্রার্থনা করছি।
শিশুর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকালে মিয়াখান নগরে ভবনের সামনে গাড়ি রাখার জায়গায় খেলছিল শিশু আরাফ। মায়ের কাছে চানাচুর খাওয়ার পর সে পানি খেতে চেয়েছিল। এ সময় আরাফের মা ফারহানা ইসলাম পানি আনতে ঘরের ভিতরে যান। তিনি ফিরে এসে দেখেন ছেলে নেই। এই ফাঁকে আদর করার ছলে আরাফকে নিয়ে ভবনের ছাদে চলে যান নাজমা বেগম।
সেখানে পানির ট্যাংকে ফেলে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ভবনটির বাসিন্দা নাজমা বেগম, তার ছেলে বাড়ির দারোয়ান হাসান ও তাদের পাশের ভবনের বাসিন্দা ফরিদকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তখন নাজমা বেগম আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, বাড়িওয়ালাকে ফাঁসাতে প্রতিবেশীর শিশুকে আদর করার ছলে পানির ট্যাংকে ফেলে হত্যা করেন।
নাজমা আদালতে দেওয়া জবানবন্দি তারা বলেন, ঋণগ্রস্ত হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় অর্থের লোভ এবং পাশের ভবনের বাসিন্দা ফরিদের প্রলোভনে বাড়িওয়ালাকে ফাঁসাতে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনার সময় নাজমার ছেলে হাসান (২৩) গেট খুলে দিয়ে তাকে ছাদে উঠতে সহায়তা করেছিলেন। ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আলম মিয়া ছিলেন আটতলা ওই ভবনের মালিক।
মূলত তাকে ‘মামলায় ফাঁসাতে’ ওই ভবনের বাসিন্দা কোনো শিশুকে হত্যা করতে নাজমাকে ২০ হাজার টাকার লোভ দেখান ফরিদ। আসামি ফরিদ বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর অনুসারী ছিলেন। ঘটনার আগে কাউন্সিলর প্রার্থী ও ভবন মালিক নুরুল আলম মিয়ার প্রচারে হামলার ঘটনায় ফরিদকে আসামি করা হয়েছিল। এ কারণে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।
পপুলার বিডিনিউজ | বস্তুনিষ্ঠতা প্রকাশে দুরন্ত
কার্যালয়: কেনাকাটা মার্কেট, ৪র্থ তলা, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
নিউজ ও বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৬-৪৬৯৫০৫ | ইমেইল: newspopular2020@gmail.com

© 2026 পপুলার বিডিনিউজ — অনুমতি ছাড়া লেখা/ছবি/ভিডিও ব্যবহার বেআইনি
প্রিন্ট করুন